প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১২, ২০২৬, ১১:৫৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৭, ২০২৫, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
এসিল্যান্ড স্যার ও নেই, তাই আমিও নেই
ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া(নোয়াখালী)।
"স্যার ইমার্জেন্সি আমার নাগরিক সনদটি দরকার,আমি গতকালকেও আসছি এখন আমার যাওয়ার সময় হয়েছে গেছে। আপনার স্বাক্ষরের দরকার না হলে তো আমি আপনাকে কল দিতাম না। আরও এক-দু’দিন অপেক্ষা করতে হবে? আমার তো কাগজপত্র এখনই দরকার। সরকার তো আপনাদেরকে ছুটি দিয়েছে, এখন সরকারি ছুটি ওভারটেক করে আপনারা আপনাদের মতো করে ছুটি কাটাতেছেন? আমি তো আপনাকে সম্মান দিয়েই কথা বলতেছি। "
হাতিয়া পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী(এস এ ই) মো. সেলিম উদ্দিনের সাথে গতকাল দুপুরে মোবাইল ফোনে কথাগুলো বলেছিলেন ৫নং ওয়ার্ড পৌর বাসিন্দা মো. তারিফ হোসেন নামের এক যুবক। মোবাইল ফোনে কথা শেষ হলে প্রতিবেদক তারিফ হোসেনকে ফোনালাপের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন," আমার একটা জবের কাজে নাগরিক সনদ দরকার। তাই আমি ঈদের আগে আসছি, কিন্তু সরকারি লম্বা ছুটি পড়ে যাওয়ায় সনদটি নিতে পারিনি। অথচ ঈদের ছুটি শেষ হলেও অফিস খোলারপর গতকালও এসেছি,আজও আসছি- কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যক্তি(এস এ ই) নেই। তাই উনার যোগাযোগ নাম্বার সংগ্রহ করে কল দিলে তিনি(এস এ ই মো. সেলিম উদ্দিন) আমাকে বলেন, এসিল্যান্ড(প্রশাসক) স্যারও নেই, তাই আমিও নেই। নাগরিক সনদ পেতে হলে আরও দুইদিন অপেক্ষা করতে হবে। "
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ১০ দিন ছুটির পর রোববার সরকারি অফিস খুলেছে। ৫ জুন শুরু হয়েছিল এই ছুটি। শনিবার ছুটির শেষ দিন গেলেও গত তিনদিন অফিসে অনুপস্থিত নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী(এস এ ই) মো. সেলিম উদ্দিন।
গত সরকারের পতন হলে পৌরসভা মেয়েরের পদও চলে যায়। ফলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গেল বছরের আগস্টের মাঝামাঝি থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) কে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়।
জানা যায়, সহকারী কমিশনার(ভূমি)'র কার্যপরিধির চাপ বেশি হওয়ায় হাতিয়া পৌরসভার নাগরিক সনদ প্রদান, বিভিন্ন ভাতাভোগীদের ফরম, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন-সংশোধনসহ অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে সাইনিং পাওয়ার পান উপ-সহকারী প্রকৌশলী(এস এ ই) মো. সেলিম উদ্দিন। পরবর্তী সময় থেকে এস এ ই মো.সেলিম অফিস চালান তার নিজস্ব নিয়মে। যিনি বিগত সরকারের আমলে নিজেকে বড্ড আওয়ামীলীগার দাবি করে মেয়র কেএম ওবায়দুল হক বিপ্লবের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে নিয়মবহির্ভূত বহু সুবিধাও নিয়েছেন তিনি। পটপরিবর্তনের সুযোগে তিনি এখন নতুন সুরে পথ চলছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান।
হাতিয়া পৌরসভা অফিস অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের অফিস হাজিরা খাতার ০১ নং ক্রমিকে এস এ ই মো. সেলিম উদ্দিন স্বাক্ষর করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের হাজিরা খাতায় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ঘরে স্বাক্ষর করেছেন। বিষয়টি নিয়ে অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা প্রশ্ন তুললে তিনি পরবর্তী মাসগুলোর হাজিরা খাতায় আর স্বাক্ষর করেননি। এতে যখন ইচ্ছে তখন অফিস করেন এবং প্রায়ই নিয়মিত অনুপস্থিত থাকেন। অবকাঠামো উন্নয়নসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি তার সুবিধামত তারিখে স্বাক্ষরের কাজ সেরে নেন। আর নাগরিক সেবা বিপর্যয় ঘটতে থাকে প্রতিনিয়ত।
এদিকে, গত তিনদিন এস এ ই মো. সেলিম অনুপস্থিত থাকায় হাতিয়া পৌরসভা অফিসে নাগরিক সেবা নিতে আসা প্রায় অর্ধশতাধিক লোক ত্যক্তবিরক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার(১৬ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়- পৌরসভা ০৫ নং ওয়ার্ড থেকে গোলাম দস্তগীর এসেছেন তার প্রতিবন্ধী ছেলের মোবাইল হিসাব নাম্বার পরিবর্তন ফরমে স্বাক্ষরের জন্য, ৮নং ওয়ার্ড থেকে আকতার হোসেন এসেছে নাগরিক সনদের জন্য, মো. সৈকত এসেছেন ৭নং ওয়ার্ড থেকে জন্মনিবন্ধনের জন্য এবং ৯নং ওয়ার্ড থেকে উম্মে আতিয়া নুরসহ অনেকে সেবা নিতে এসে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছেন। এর আগে তারা পৌরসভা অফিসের এহেন উদাসীনতার জন্য ক্ষোভ ঝাড়েন।
নাগরিক সেবা বিঘ্ন ঘটা এবং অফিসে ইচ্ছেমতো অনুপস্থিতির বিষয়ে হাতিয়া পৌরসভা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সেলিম উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, "এসব বিষয়ে আমি আপনাকে কেনো বলবো? আপনার কিছু করার ক্ষমতা থাকলে আপনি করেন। "
এবিষয়ে হাতিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও পৌরসভা প্রশাসক মং এছেন মোবাইল ফোনে জানান, তিনি সরকারি কাজে হাতিয়ার বাইরে আছেন। কর্মস্থলে এসে এসব ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।
Copyright © 2026 দৈনিক নয়া সকাল. All rights reserved.