ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া (নোয়াখালী)
নোয়াখালীর হাতিয়ায় রাস্তা প্রশস্ত করার নামে ঠিকাদার নির্বিচারে গাছগুলো ফেলে দিচ্ছে স্কেভেটর বা ভেকু মেশিন দিয়ে। যদিও বনবিভাগ বলছে, রাস্তার কাজের জন্য কাউকে গাছ কাটার অনুমতি কিংবা নিলাম দেওয়া হয়নি। রাস্তায় ছায়াশীতল পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা পালনকারী এসব গাছ নির্বিচার কাটার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার চরইশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষ্মীদিয়া রাজের হাওলা আঞ্চলিক এই সড়কের দুই পাশে রয়েছে ছায়াদানকারী সারিবদ্ধ গাছপালা। যা স্কেভেটর মেশিন দিয়ে ফেলে দেওয়ার খবর পেয়ে প্রতিবেদক রোববার(১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে যায়। এসময় ঠিকাদারের লোকজন ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তার মাটি খুঁড়তে গাছগুলোও ভেঙেচুরে ফেলে দিতে দেখা যায়। যেখানে রয়েছে প্রায় সব বড় বড় কাঠজাতীয় গাছ। একপাশ দিয়ে স্থানীয় নন্দকুমার হাইস্কুলের কয়েকজন ছাত্রী স্কুল থেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন। এসময় একটি গাছ পড়া অবস্থায় তাদের শরীরে আঘাত পায়। ইয়াছমিন নামের এক শিক্ষার্থী তখন ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, এরা মানুষ নই, সবগাছ ভেঙেচুরে ধ্বংস করে দিচ্ছে আবার মানুষও মেরে ফেলতে চাইছে! অবস্থা দেখে স্কেভেটর চালক হাসিতেছেন। চালক বলেন, কন্ট্রাক্টর এবং ইঞ্জিনিয়ার যেভাবে বলছে তারা সেভাবে কাজ করতেছে।
স্থানীয় নবীরসহ কয়েকজনে জানান, রাস্তাটি অনেক আগে থেকে ভাঙাচোরা অবস্থায় ছিল। কিছু অংশে সলিং ছিল, বর্ষায় হাঁটাচলা করা যায় না। এখন ১০ফুট প্রশস্ত করে নতুন করে কার্পেটিং করার কথা। তবে গাছগুলোর একটা ব্যবস্থা করলে ভাল হতো।
জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে রাস্তাটি ১০ফুট প্রশস্ত করে নতুন করে কার্পেটিং করার জন্য দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কাজটি পায় মোস্তফা এন্ড সন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের নামে ইজিপিতে অংশ নেন আরাম নামের নোয়াখালী জেলা সদরের এক ব্যক্তি।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি দুই কিলোমিটারের বেশি, তবে এর সাথে মোট পাঁচ কিলোমিটারের কার্পেটিংয়ের কাজ রয়েছে উক্ত প্রতিষ্ঠানের নামে। যা করাচ্ছেন আরাম নামের এক ঠিকাদার।
এদিকে, ঠিকাদারের এ কাজের ম্যানাজার পরিচয় দিয়ে রাশেদ নামের এক ব্যক্তি মুঠোফোনে বলেন,' গত ১৭ বছর আপনারা কৈ ছিলেন? এখন গাছের খবর নিতে আসছেন।'
কাজের ঠিকাদার আরাম জানান, গত সপ্তাহে তারা একদিন কাজ করেছেন আর আজকে করেছেন । গাছ কাটার বিষয়ে তারা এখন অনুমতি প্রক্রিয়া ঠিক করেছেন বলে জানান।
সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা(নলচিরা রেঞ্জার) আল-আমিন গাজী জানান, রাস্তা প্রশস্তের নামে তারা বিনা অনুমতিতে ভেকু মেশিন দিয়ে যেভাবে গাছগুলো ভেঙেচুরে দিচ্ছেন- তা উপজেলা প্রশাসনসহ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে এলজিইডির হাতিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার কাজ করতে হলেতো গাছ কাটা যাবে। কেননা গাছের অনুমতি কিংবা নিলামের প্রক্রিয়া করতে বহু সময়ের ব্যাপার।
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।