নয়া সকাল:
নোয়াখালী সুধারাম থানায় শিক্ষকের দায়ের হওয়া পর্নোগ্রাফি মামলার আসামী হাতিয়ার শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল জব্বার, মামলার বাদীকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে আসামীরা একে অপরের যোগসাজসে বাদী ও তাঁর স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। গত ৫ মে ২০২৪ তারিখে নোয়াখালী সুধারাম থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা করেন, হাতিয়া ম্যাক পাশ্বার্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুন অর রশিদ।
উক্ত মামলায় হাতিয়া উপজেলার শিক্ষা অফিসার আবদুল জব্বার, মামলায় অন্তভূর্ক্ত হয়। মামলাটি বর্তমানে নোয়াখালী পুলিশ সুপার তদন্ত করছেন । মামলায় অন্তভূর্ক্ত হওয়ার পর উক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা ও বাকী আসামীরা সহ বাদীকে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য। এতে বাদী রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করে আসছে। গত ৭/৯/২০২৫ রবিবার বাদী মামুন অর রশিদ ছুটি থাকা অবস্থায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল জব্বার ও অন্যান্য আসামীরা মিলে জনৈক বাকের হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে হীন ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ে পাঠায়। বাকের বিদ্যালয়ে গিয়ে জানতে চায় প্রধান শিক্ষক কিভাবে ছুটিতে গেল, কে ছুটি দিল তাকে। এক পর্যায়ে সে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরন করে এবং চাঁদা দাবি করে হুমকি দিয়ে চলে আসে। প্রধান শিক্ষককেও মোবাইলে হুমকি প্রদান করে। উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছুটি থেকে আসার পর গত ১৭/৯/২০২৫ইং তারিখে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ জমা দেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেই অভিযোগের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে চুপ করে থাকে। উল্টো প্রধান শিক্ষক মামুন অর রশিদকে হয়রানি করার জন্য চাঁদাবাজ বাকের হোসেনকে দিয়ে ২১/০৯/২০২৫ইং তারিখে বাকী আসামীরা মিলে প্রধান শিক্ষক মামুন অর রশিদের বিরুদ্ধে একটা মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেম্য মূলক ও হীন ষড়যন্ত্র মূলক অভিযোগ দায়ের করে হয়রানি করার জন্য।শিক্ষা কর্মকর্তা চাঁদাবাজ বাকের হোসেনের মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ তদন্তের জন্য কমিটি করে দেয়।অথচ, শিক্ষকদের দেওয়া চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি ।
এতে করে শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করে। প্রধান শিক্ষক তখন প্রতিকার চেয়ে বিগত ২৪/৯/২০২৫ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগপত্র প্রদান করেন । উপজেলা নির্বাহী অফিসার তখন উক্ত অভিযোগটি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করে দেয়।
এদিকে পর্নোগ্রাফি মামলায় ছয়জন আসামী দুইমাস জেল খেটে বর্তমানে জামিনে রয়েছে। বাকীদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
আসামীরা হলেন (১) ম্যাকপার্শ্বান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, হাসান উদ্দিন (২) ম্যাকপার্শ্বান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিন্নাত আরা বেগম (৩) মধ্য রেহানিয়া আবদুল্যা সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর উদ্দিন তানভীর (৪) জাহাজমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন (৫) হাতিয়া উপজেলা এলজিইডির উপ—সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শরীফুল ইসলাম (৬) মাইজ ভান্ডার শরীফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন। বর্তমানে সকল আসামীরা সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছে।
বাকী আসামীরা হলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপ—সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা মোঃ জসীম উদ্দিন, রাজের হাওলা সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুজ্জামান, অফিস সহকারী নাজিম উদ্দিন, জেলা পাক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারি সোহরাব উদ্দিন, সাখাওয়াত হোসেন, উক্ত আসামীরা প্রভাবশালীদেরকে দিয়ে বাদীকে বিভিন্ন ভাবে মামলা তোলার জন্য চাপ প্রয়োগ অব্যহত রেখেছে।
বাদী ইতিমধ্যে সুধারাম মডেল থানায় দুটি জিডি করেছে। কিছুদিন আগে আসামীরা জাহাজমারা কামাল উদ্দিন নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে যায়। বাদীকে চাপ প্রয়োগ করে মামলা তোলার জন্য। উক্ত কামাল উদ্দিন, বাদীকে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে এবং লিখিত স্ট্যাম্প দিয়ে বসতে চাপ প্রয়োগ করে। মামলা প্রত্যাহার না করলে কামাল উদ্দিন বাদীকে ধমক দেয় তাকে বিদ্যালয় থেকে অপসারন করা হবে এবং বিভিন্ন ভাবে মামলা হামলার ভয় দেখায়। তাঁর এক সৎ ছেলে মেজর ও এক আত্মীয় উপজেলা নির্বাহি অফিসার, তার ভয় দেখায় বাদীকে। আসামীরা এখনো তার সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। বাদীকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করার জন্য।
পর্নোগ্রাফি মামলা ও প্রধান শিক্ষক মামুন অর রশিদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল জব্বার মুঠো ফোনে উত্তেজিত হয়ে বিক্ষুব্ধ ভাষাা বলেন, আমি এসব বিষয়ে কথা বলতে চাই না, আপনি আসেন বলে ফোনের সংযুক্তি কেটে দেন,পরে একাধিকবার কল করেও ফোন রিসিভ না করায় তার কোন মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
হাতিয়ার উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল জব্বারের এ সকল কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসরাত নাসিমা হাবিব বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।