নয়া সকাল প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সোনাইমুড়ী উপজেলা শাখার নবঘোষিত কমিটিতে অনুমতি ছাড়া নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন রিকাউন। তিনি অবিলম্বে নাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলা শাখায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নবগঠিত কমিটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন রিকাউন জানান,
“অদ্য ৫ অক্টোবর, রবিবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটের সময় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজ থেকে সোনাইমুড়ী উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণার পোস্টটি আমার নজরে আসে। কিন্তু আমার সঙ্গে এনসিপির সোনাইমুড়ী উপজেলা শাখা বা দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীর অতীতে বা বর্তমানে কোনো প্রকার যোগাযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন,
“আমার সঙ্গে কোনো অনুমতি বা আলোচনা ছাড়াই সোনাইমুড়ী উপজেলা শাখার কমিটিতে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অনতিবিলম্বে আমার নাম কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি সতর্ক করে বলেন,
“যদি আমার নাম কমিটি থেকে অপসারণ না করা হয়, তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির সোনাইমুড়ী উপজেলা, নোয়াখালী জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবো।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক সংগঠক জানান,
“জেলা সমন্বয় কমিটি ঘোষণা না করে উপজেলা কমিটি ঘোষণা করাটা রাজনৈতিক অপরিপক্কতার পরিচয় দেয়। কে বা কারা এই কমিটি নিয়ে কাজ করেছেন, সেটা কেন্দ্রীয় সংগঠকবৃন্দ ভালো বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে জেলার সংগঠকদের কারও মতামত গ্রহণ করা হয়নি। কাজেই এর যাবতীয় দায়ভার যারা এই কমিটি ঘোষণা করিয়েছেন, তাদের ওপর বর্তায়।”
তিনি আরও বলেন,
“প্রকাশিত কমিটির দুই একজন ছাড়া অধিকাংশই এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আমরা কেন্দ্রে বসে বসে কমিটি ঘোষণা করার তীব্র নিন্দা জানাই। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত ও অংশগ্রহণ ছাড়া কমিটি ঘোষণা করলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জেলা কমিটি গঠনের আগেই উপজেলা কমিটি দিলে এমন বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে এবং দলীয় ঐক্য নষ্ট হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা চাই, কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বুঝে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করুন। এতে দল শক্তিশালী হবে এবং বিভ্রান্তি দূর হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।