উপজেলা প্রতিনিধি,হাতিয়া(নোয়াখালী)।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের রাশেদ নামের এক বাসিন্দাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে গহীন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া এবং তার স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হাসান মাঝি গংদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জাহাজমারা ইউনিয়নের দক্ষিণ বিরবিরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে রাশেদকে উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. খোরশেদ আলম।
ভুক্তভোগী রাশেদ (৩৮) দক্ষিণ বিরবিরি এলাকার মৃত কাশেমের ছেলে। তিনি জানান, অপহরণের ঘটনায় তিনি হাতিয়া থানায় অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
রাশেদ ও তার স্ত্রী জানান, তারা কাদিরার স্লুইসগেট সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করতেন। কিছুদিন আগে আশ্রয়কেন্দ্রটি দখলে নিয়েছে হাসান মাঝি ও তার লোকজন। যারা চাঁদা দিতে পেরেছে শুধু তারাই ব্যারাকে থাকতে পেরেছেন। রাশেদের স্ত্রী শাহেনা (৩০) চাঁদা দিতে না পারায় এবং ব্যারাক ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোয় ৮ নভেম্বর রাতভর হাসান মাঝিসহ আমির ডাকাত ও তার সহযোগীরা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং ঘরের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। রাতভর পাহারায় রেখে যাতে তিনি বের হতে না পারেন তাও নিশ্চিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
পরদিন গভীর রাতে শাহেনা তার ছোট সন্তানকে নিয়ে গোপনে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হয়ে সেন্টার বাজার এলাকায় স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
রাশেদের অভিযোগ, ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় দক্ষিণ বিরবিরি থেকে তাকে ধরে নিমতলি বাগানে নিয়ে যায় হাসান মাঝি, আমির ডাকাতসহ আরও কয়েকজন। সেখানে হাত-পা বেঁধে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাকে আহত করা হয়। পরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এবং লাশ গুমের জন্য গর্তও খোঁড়া হয়। এসময় ৯৯৯-এ ফোন করলে জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।
স্থানীয় সোহেল, ফাতেমাসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, হাসান মাঝি ও তার গ্রুপ নিমতলি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দাগ দখল, লুটপাট, ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িত। সেন্টার বাজার এলাকার কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সহায়তায় তার অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
অভিযোগের বিষয়ে হাসান মাঝি রাশেদকে অপহরণের ঘটনার কিছু অংশ স্বীকার করলেও শাহেনাকে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
হাতিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ একেএম আজমল হুদা বলেন, তিনি ঘটনার বিষয়ে অবহিত আছেন এবং তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।