ছায়েদ আহামেদ
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকিং ও সুখচর ইউনিয়ন সংলগ্ন মেঘনার জাগলারচরে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। অজ্ঞাতনামা রয়েছে আরো ১০/১২জন। শামছু গ্রুপের শামছুর ভাই আবুল বাশার বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার(২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে হাতিয়া থানায় এসে তিনি এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। হাতিয়া থানা মামলা নং ২১। আবুল বাশার উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
মামলার বাদী আবুল বাশার জানান, ঘটনায় নিহত তার ভাতিজা মোবারক হোসেন সিহাব(নিখোঁজ শামছুর ছেলে)'র লাশ পোস্টমর্টেম পরবর্তী দাফনকাজ সমাপ্তিসহ নানান কারণে মামলা দিতে একটু দেরি হয়েছে।
মো.শামসুদ্দিন ওরপে শামছু বাহিনীর শামছুর স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন, মনির মেম্বারসহ কয়েকজনে আমার স্বামীকে চরে জমি দিবে বলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পরদিন আমার ছেলে শিহাব তার বাবাকে ফিরিয়ে আনতে যায়। সেখানে গিয়ে আমার ছেলে আর জীবিত আসেনি,আসে- তার মৃতদেহ!
তিনি বলেন, আমার ছেলে নোয়াখালী সৈকত কলেজের ছাত্র। সে তার বাবার জন্য চরে গিয়ে আর জীবিত ফিরে আসেনি, ছেলের মৃতদেহ পেলেও এখনো স্বামীর লাশ পায়নি। আমি এর বিচার চাই।
২৩ বছর বয়সী মোবারক হোসেন সিহাব সুবর্ণচর উপজেলার সৈকত সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা যায়।
শামছুদ্দিন ওরপে শামছুর বড় ছেলে ফখরুল ইসলাম ও ভাই আবুল বাশার ঘটনার মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান প্রশাসনের কাছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার(২৩ ডিসেম্বর) সকালে জাগলারচর দখল নিয়ে আলাউদ্দিন ও সামছু বাহিনীর গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৫ জনের মৃত দেহ ও ৭/৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও সামছু বাহিনীর সামছুসহ কয়েকজনের খোঁজ এখনো মেলেনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, শামছু বাহিনীর শামছুসহ দুইজন নিখোঁজ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে চর দখলে ঘটনার মূল হোতারা দুইজনের মৃত দেহ চরের যেকোনো স্থানে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছে।
এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়ন চর আমান উল্যাহ গ্রামের মো. মহিউদ্দিনের ছেলে মোঃ আলাউদ্দিন(৩৬), জাহাজমারা ইউনিয়ন পাইকবাধা এলাকার মো. সামছুদ্দিনের ছেলে মোঃ মোবারক হোসেন (২১), হাতিয়া পৌরসভা ৫নং ওয়ার্ড পশ্চিম লক্ষিদিয়া গ্রামের মৃত শাহী আলমের ছেলে হক সাব(৫৫), চানন্দী ইউনিয়নের মান্নান নগর এলাকার মৃত সেকু'র ছেলে কামাল উদ্দিন (৩৮) ও নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়ন ০৯ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ চর মজিদ এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে আবুল কাশেম (৫৭)।
আহতদের মধ্যে মো. সোহরাব (২৫) হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন ০৭ নং ওয়ার্ডের খবির উদ্দিনের ছেলে। অন্যান্য আহতরা নোয়াখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা যায়।
হাতিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলম জানান, নিহত শামছুর ভাই আবুল বাশার বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ অনুযায়ী প্রশাসন দ্রুত আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।