নয়া সকল প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথকে সহজ করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ কতৃক বাস্তবায়িত বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
সোমবার ২২ ডিসেম্বর সকালে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে "জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং করণীয় শীর্ষক সমন্বয় সভা" অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জনাব ফেরদৌসী বেগমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জনাব মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। আরো উপস্থিতি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ এবং অংশগ্রহণকারী ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ।
জেলা প্রশাসক জনাব মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রাম আদালত দরিদ্র মানুষের ন্যায় বিচার পাওয়ার সবচেয়ে কাছের আদালত। গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যানরা নিজের রুমে বসে মামলা নিষ্পত্তি না করে এজলাসে বসে আদালতের মুডে মামলাগুলো নিষ্পত্তির করার কথা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সরকার উপপরিচালক ফেরদৌসী বেগম স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন। ইউপি সেবা গ্রহীতাদের সাথে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো। বিচার প্রার্থীরা গ্রাম আদালতের সেবা থেকে যেন বঞ্চিত না হয়, সে দিকে গুরুত্ব আরোপ করে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশনা দেন। তিনি গ্রাম আদালতের মামলাগুলো এজলাসে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা রাখার জন্য নির্দেশ দেন। তিনি আরো বলেন, আমি ইউপি ভিজিট শুরু করেছি, পর্যায়ক্রমে সকল ইউপি ভিজিট করবো।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের স্বীকৃতি স্বরূপ ৩টি ক্যাটাগরিতে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
১ম ক্যাটাগরিতে চাটখিল উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব গোলাম মাওলাকে জেলায় সর্বোচ্চ মামলা গ্রহণ ও জেলায় সর্বোচ্চ মামলা নিষ্পত্তির জন্য ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ২য় ক্যাটাগরিতে সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব গোলাম কিবরিয়াকে জেলায় ২য় সর্বোচ্চ মামলা গ্রহণ, জেলায় ২য় সর্বোচ্চ মামলা নিষ্পত্তি ও সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য মনোনীত করা হয়। ৩য় ক্যাটাগরিতে সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব মোঃ সহিদুল ইসলামকে মামলার নথি পূর্ণ হালনাগাদ, নিজ উদ্যোগে এজলাস নির্মাণ, শুনানির মামলা পরিচালনা ও গ্রাম আদালতের প্রচারণার লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ এবং নারী সেবা প্রার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মনোনীত করা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ৫ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএনডিপি এবং বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এ প্রকল্প। দেশের ৪৪৫৩ টি ইউনিয়নে প্রকল্পটির মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে কাজ করছে ইপসা, ইএসডিও এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশন। মূলত এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইউনিয়ন পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যাতে অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার পায় এবং গ্রামীণ এলাকার জনগণ বিশেষত নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর মানুষের ন্যায় বিচারের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।