মোহাম্মদ উল্যাহ্ ভূঁইয়া:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী অঞ্চলের শিক্ষা জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, কয়েক প্রজন্মের প্রিয় পথপ্রদর্শক নোমান আর নেই।
তিনি গতকাল রাত ১১:৩০ মিনিটে সোনাইমুড়ী সেন্ট্রাল হাসপাতালে হৃদরোগ জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬০ বছর। সোমবার বেলা ১১ টায় সোনাইমুড়ী রেলওয়ে স্ট্রেশন জামে মসজিদে জায়নামায শেষে ওনাকে সোনাইমুড়ীতেই দাফন করা হয়।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতার সঙ্গে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে গেছেন। অসংখ্য শিক্ষার্থীকে তিনি বিনামূল্যে কিংবা নামমাত্র পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন, যেন কোনো শিক্ষার্থী অর্থাভাবে জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।শিক্ষা তাঁর কাছে কখনোই ছিল না শুধুমাত্র পেশা; বরং এটি ছিল মানবসেবার এক মহৎ ব্রত। তাঁর হাত ধরেই বহু শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন একজন অভিভাবক, পথপ্রদর্শক ও অনুপ্রেরণার উৎস। কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়ে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলোকিত করেছেন। তাঁর ক্লাসরুম ছিল জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিকতারও এক উজ্জ্বল পাঠশালা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, হাতিয়া নিবাসী মাওলানা আবদুল খালিক ও মোসাম্মৎ জুলেখা খাতুনের ৯ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ছাত্রজীবন থাকাকালেই ১৯৯০ সালের দিকে তিনি সোনাইমুড়ী পাড়ি জমান। দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময় তিনি এখানে অতিবাহিত করেন।
জায়নামাযে উপস্থিত হয়ে ওনার প্রাক্তন ছাত্র বাবলু জানায়, কেবল পুথিঁগত বিদ্যাই নন তিনি আমাদের নৈতিক শিক্ষায় সমান ভাবে গুরুত্ব দিতেন। তিনি ছিলেন আমাদের জীবনের আলো, যার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।