নয়া সকাল প্রতিবেদক-
আবেগ, ভালোবাসা, স্মৃতিচারণ আর বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছিল নোয়াখালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। দীর্ঘদিন পর শৈশব-কৈশোরের বন্ধু, সহপাঠী ও প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হয়ে স্মৃতির রঙে রাঙানো এক আনন্দঘন দিন কাটিয়েছেন বিদ্যালয়ের ১৯৬৭-২০২৫ প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা।
দিনব্যাপী নানা আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে নোয়াখালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।
নোয়াখালী-৪ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন।
এরপর পুনর্মিলনী উপলক্ষে কেক কাটার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, এডভোকেট আব্দুর রহমান এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি সিনিয়র এডভোকেট আবুল খায়ের,এবিএম আব্দুল আলিম, প্রধান উপদেষ্টা,মোহাম্মদ ফজলুল হক, সদস্য সচিব, পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটি,
এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সমাজের বিশিষ্টজন, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিভিন্ন ব্যাচের শত শত প্রাক্তন শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সমাজ উন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল জ্ঞানার্জনের স্থান নয়; এটি মানুষ গড়ার কারখানা এবং আজীবনের সম্পর্ক ও মূল্যবোধের ভিত্তি।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করে অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন।
আয়োজক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান ও মহিউদ্দিন ফারুক এর প্রাণবন্ত ও সাবলীল সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে রোমাঞ্চকর ও উপভোগ্য। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রাক্তন ছাত্র জামাল হোসেন বিষাদের মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা। এছাড়া গোলাম মহিউদ্দিন ফারুকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আয়োজিত “বেস্ট কাপল অ্যাওয়ার্ড” পর্ব, সাইফুল ইসলাম এর পরিচালনায় রেফেল ড্র উপস্থিত অতিথি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
দিনব্যাপী আয়োজনে আরও ছিল স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময়, র্যাফেল ড্র, পুরস্কার বিতরণী এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব হারুনুর রশিদ আজাদ ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম এবং ৬নং নোয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত। অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং আয়োজকদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
সবশেষে বরেণ্য সংগীত শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। গান, সুর আর আনন্দের আবেশে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জনাব আব্দুল করিম উপস্থিত সকল অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সুন্দর পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেন।
স্মৃতি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের অনন্য বন্ধনে আবদ্ধ এই পুনর্মিলনী কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং অতীত ও বর্তমানের এক হৃদয়ছোঁয়া সেতুবন্ধন। প্রাণের বিদ্যাপীঠে ফিরে পাওয়া শৈশবের স্মৃতি আর প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তগুলো অংশগ্রহণকারীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে।
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।