নোয়াখালী -
জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, দুঃখের বিষয় ক্ষমতায় আসার পর তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার করেনি এবং গণতন্ত্রের নামে জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ১৫ বছর শাসন করেও টিকতে পারেনি। তাদের মত আচরণ করে জনগণের মতকে উপেক্ষা করলে আপনারা এক বছরও টিকে থাকতে পারবেন না। সুতরাং জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।
মঙ্গলবার (০২ জুন) নোয়াখালী জেলার একটি মিলনায়তনে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘অগ্রসর কর্মী শিক্ষাশিবিরে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারী মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহাজাহান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা এটিএম মাসুম সরকারের গত তিন মাসের কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তিন মাসে এ সরকার সফলতার চাইতে ব্যর্থতার পরিচয় বেশি দিয়েছে। দেশে খুন, নারী ও শিশু ধর্ষণ, চাঁদাবাজী ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রশাসন ও শিক্ষাঙ্গনে নির্লজ্জ দলীয়করণ, দাতাদের মনোযোগ আকর্ষণে ও বিনিয়োগ আনয়নে ব্যর্থতা, বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা সরকারের তিন মাসের সুস্পষ্ট দলিল।
তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ শরিয়া আইন ও কুরবানি নিয়ে মশকরা করছেন। দেশের মধ্যে আবার নব্য ফ্যাসিবাদের, নব্য মির্জাফরদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এদেশ শাহ-জালালের দেশ, শাহ-পরানের দেশ; শাহ-মাখদুম, শাহ ওলি-উল্যাহ, শহীদ সাব্বির, আইয়ুব, আবু সাইয়েদ ও শহীদ মুগ্ধের এদেশ। সুতরাং এখানে কোনো স্বৈরাচারের মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা বরদাস্ত করা হবে না। আমরা কোনো ষড়যন্ত্রের নিকট মাথানত করবো না।
সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারও কাছে দাসখত বা ডিকটেশন দিয়ে দেশ চালাবেন না। আমাদের দেশের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে অন্যায় ঢুকে গেছে। এমন একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই আমাদেরকে সাহস ও হিম্মত নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জনগণের নিকট ইসলামের দাওয়াত ও সৌন্দর্য তুলে ধরতে হবে এবং ঈমানের প্রধান অপরিহার্য দাবি হিসেবে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সবাইকে সাথে নিয়ে আগামীর ভবিষ্যৎ ইনসাফ, ন্যায়নীতি ও কুরআনের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
দিনব্যাপী এই শিক্ষাশিবিরে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন এবং দারসুল কুরআন পেশ করেন কুমিল্লা অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক মাওলানা লিয়াকত আলী ভুইয়া, ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারী ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, কুমিল্লা মহানগরী সেক্রেটারী মাহবুবুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা সাইয়েদ আহমেদ। শিক্ষাশিবিরে জেলার বিপুল সংখ্যক অগ্রসর কর্মী অংশগ্রহণ করে।
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।