নয়া সকাল প্রতিবেদক
নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নে ১১২ বছরের পুরোনো একমাত্র চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ১১ ফুট উঁচু দেয়াল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পশ্চিম বাহাদুরপুর গ্রামে চরম মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে ৭টি পরিবার; ব্যাহত হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায় শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বাড়ির পথ—যে পথ দিয়ে হেঁটে গেছে কয়েক প্রজন্ম। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই চেনা পথটি এখন এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর! নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের পশ্চিম বাহাদুরপুর গ্রামে মৃদ্দা বাড়ী
১১২ বছরের পুরোনো একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ১১ ফুটের এক বিশাল দেয়াল তুলে। ফলে পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ৭টি পরিবার।
সরজমিন দিয়ে দেখা যায় রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার খাতা কিংবা ক্লাসের অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে প্রতিদিন তাদের পড়তে হচ্ছে চরম দুশ্চিন্তায়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও মেলেনি কোনো সমাধান।
এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধানের জন্য অভিযুক্ত দেয়াল নির্মাণকারী হারুনুর রশিদ মিলনের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ঘরে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন তিনি। এমনকি মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, 'কথা বলবেন' বলে সংযোগটি কেটে দেন। (অভিযুক্তের তালাবদ্ধ বাড়ির ফুটেজ)
নোয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোমায়রা ইসলাম বলেন"এই বিষয়টি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং বিচারাধীন অবস্থায় আছে। যেহেতু বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারাধীন, তাই এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে আদালতের নির্দেশনার পর যদি কোনো বিষয়ে আমাদের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, প্রশাসন অবশ্যই সব ধরনের সহযোগিতা করবে।"
আইনি লড়াই হয়তো তার নিজস্ব গতিতেই চলবে, তবে ৭টি পরিবারের এই অবরুদ্ধ দশা ও চরম অনিশ্চয়তার দ্রুত অবসান হওয়া প্রয়োজন। আদালতের বিচারাধীন বিষয়ের পাশাপাশি মানবিক দিকটি বিবেচনা করে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সংকটের সমাধান করবে—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের।
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।