নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী:
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সাগরিকা’র বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, পরিচালনা কাঠামোয় স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংস্থার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বিদেশি দাতা সংস্থার অর্থ সংগ্রহ করা হলেও তার স্বচ্ছ ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নিয়েও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক জানান, ঋণ গ্রহণের সময় তাদের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এতে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান তিনি। আরেক গ্রাহকের অভিযোগ, ঋণ বিতরণের অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই কিস্তি আদায় শুরু হয় এবং সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে মাঠকর্মীদের চাপ ও অপমানজনক আচরণের মুখে পড়তে হয়।
পরিচালনা পর্ষদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি একটি নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সুশাসন, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদেশি অনুদাননির্ভর একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালনায় সুশাসন ও স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর নীতিমালা অনুসরণ করা উচিত।
এ ছাড়া, সংস্থাটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে প্রচারণামূলক কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো সরকারি নথি এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাগরিকার ব্যবস্থাপনা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, "আমার জানামতে সাগরিকার কোথাও কোনো অনিয়ম নেই। সংস্থার সব কার্যক্রম নিয়মনীতি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।"
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং দাতা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
।পরবর্তীতে থাকবে আরো বিস্তারিত।
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।