নোয়াখালী প্রতিনিধি:
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এবং তার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি (৩ কোটি ৫২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫) টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।
১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নোয়াখালীতে অবস্থিত দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা তিনটি রুজু করা হয়। তিনটি মামলারই বাদী হয়েছেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী।
দুদকের দায়ের করা প্রথম এজাহার থেকে জানা যায়, সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে কাদের মির্জার নামে মোট ২ কোটি ৩৭ লাখ ৭৪ হাজার ৭০৪ টাকার নিট সম্পদ পাওয়া যায়, যার বিপরীতে তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৮৮ হাজার ১০৪ টাকার। ১৯৯৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে মেয়রের দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি এসব সম্পদ অর্জন করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে কাদের মির্জার স্ত্রী আখতার জাহান বকুলের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনেছে দুদক। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আখতার জাহান বকুল পেশায় একজন গৃহিণী। মূলত স্বামী আবদুল কাদের মির্জার সহায়তায় ও পরস্পর যোগসাজশে তিনি এই বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক হয়েছেন। এই মামলায় কাদের মির্জাকেও সহযোগী হিসেবে আসামি করা হয়েছে।
তৃতীয় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে কাদের মির্জার ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিক ওরফে তাশিক মির্জার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, তাশিক মির্জা একজন ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও বসুরহাট বাজারে তার নামে একটি রড-সিমেন্টের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উক্ত ব্যবসায় তার ৮৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিয়োগ পাওয়া গেলেও প্রাথমিক পুঁজির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পিতা কাদের মির্জার সহায়তায় তিনি এই সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দুদক প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছে এবং এই মামলায়ও কাদের মির্জাকে আসামি করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১০৯ ধারা মোতাবেক মামলাগুলো রুজু করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মামলাগুলো রুজুর বিষয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন রয়েছে এবং তদন্তকালে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।