ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া(নোয়াখালী)।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যন্ত্রপাতি ও ওষুধসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়াতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার মানসী রানী সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি কারসাজির মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
টেন্ডার ওপেনিং রিপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট সূত্র খতিয়ে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যন্ত্রপাতি ও ওষুধসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহের জন্য গত ১৮ আগস্ট ইজিপি টেন্ডার দরপত্র আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। মোট ৯টি প্যাকেজ যেমন- হাসপাতালে মেডিসিন, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য, লাইলেন, আসবাবপত্র, গজ-সুতা-ব্যান্ডেজ, খাদ্য, কাপড় পরিস্কারক, স্টেশনারি( কলম,কাগজ, পেন্সিল, ফাইল.) সরবরাহের জন্য ১১টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। যার ওপেনিং ডেট ছিল গত ০১ সেপ্টেম্বর । যেখানে ৯টি প্যাকেজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৬টি প্যাকেজের সর্বনিম্ম দরদাতা (মেসার্স সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজ, ২১ লাখ ১১ হাজার তিয়াত্তর টাকা)কে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা (২৬ লাখ ২১ হাজার ৪৫৮ টাকা)একই মালিকানাধীন- ইন্ডিগো ইন্টারনেশনাল ও বাইয়ো হেল্থ নামক দু'টি প্রতিষ্ঠানকে নেগোসিয়েশনের ভিত্তিতে কাজ পাইয়ে দিতে কারসাজি করা হয়। ফলে ক্ষতি হয়েছে সরকারি অর্থের।
এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ঠিকাদার'রা অভিযোগ করে জানান, হাসপাতালের আহ্বান করা আলোচ্য টেন্ডারে সব শর্ত পূরণ করে একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহন করে। তা সত্ত্বেও সর্বনিম্ম দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে অগ্রহণযোগ্য বা ননরেসপনসিভ ঘোষণা করা হয়। এবং অনিয় ও কারসাজির মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতা 'বাইয়ো হেল্থ ও ইন্ডিগো ইন্টারনেশনাল' নামে দু'টি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়। পরে কার্যাদেশও প্রদান করা হয় তাদেরকে। প্রতিষ্ঠান দুটির পাওয়া কাজের মধ্যে ওষুধ ও যন্ত্রপাতিসহ একাধিক পন্য রয়েছে। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য ছয় প্রকারের প্যাকেজে বেশি অনিয়ম ও কারসাজি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, ডাক্তার মানসী রানী তার স্বামী ও হাসপাতালের হিসাব রক্ষক মো. নজরুল ইসলাম মাধ্যমে বিশাল অংকের আর্থিক লেনদেনে বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন।
অংশগ্রহনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মিল্লাতে রহিমসহ কয়েকজন ঠিকাদার সৃষ্ট এ অনিয়মের সঠিক তদন্ত করে টেন্ডারের পুনঃ মূল্যায়ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মানসী রানী সরকার। সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঠিকাদারদের সঙ্গে আমার স্বামীর কোনো সংযোগ নেই। টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠিকাদার নির্বাচিত করা হয়েছে।”এ সময় তাঁর স্বামী স্বপন কুমার ধর- কেও পাশে দেখা যায়।
এদিকে, টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন," আমি মূল্যায়নের সময় ছিলাম না, শুধু সিদ্ধান্তের পর অবগত হয়েছি। "
কমিটির আরেক সদস্য ও উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা মো. ইমদাদুল হক বলেন," কমিটিতে ছিলাম। একজন কনসালটেন্টকে দিয়ে কাজ করে সিলেকশন ক্রাইটেরিয়ায় যাদেরকে রেসপনসিভ করা হয়েছে এবং এরপর আমাদের দেখানো হয়েছে- কে কতো রেট দিয়েছে। "
এবিষয়ে নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা: আনোয়ার হোসেন জানান, হাসপাতালের টিএইচ এবং টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি এটা যাচাই-বাছাই করেছে। পুনঃমূল্যায়নের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।