ইমাম উদ্দিন আজাদ, নোয়াখালী
নোয়াখালীতে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের জেলা কর্মশালা অনুষ্ঠিত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত জেলা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহায়তায় ব্র্যাকের ‘রিইন্টিগ্রেশন অব মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ (প্রকল্প-১১৩৭)’-এর আওতায় কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়। প্রকল্পের কার্যক্রম ও অর্জন এবং মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত শিখন জেলার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এবং সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারীদের মধ্যে সমন্বয় ও টেকসই পুনরেকত্রীকরণ এর জন্য পদক্ষেপ গ্রহনই ছিল কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রবাসীদের একটি সমন্বিত ডাটাবেজ প্রয়োজন। এই ডাটাবেজের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ও ফেরত আসা অভিবাসীদের তথ্য জানা যাবে এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের কর্মমুখী করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, টিটিসি ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ফেরত আসা প্রবাসীরা দেশেই স্বাবলম্বী হতে পারেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শান্তনু কুমার দাশ (সার্বিক) বলেন, দেশের অর্থনীতি মূলত দুটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, একটি গার্মেন্টস শিল্প এবং অন্যটি প্রবাসী রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা অন্যদের হাতে থাকাকে তিনি সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। প্রবাসীদের ডাটাবেজ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া সহজ হবে। সরকারের প্রবাসী কার্ডের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রবাসীদের সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এ সময় তিনি ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জিনাত রেহেনা বলেন, বিদেশফেরত কর্মীরা সাধারণত শারীরিক ও মানসিক সমস্যা নিয়ে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে আর্থিক দুরবস্থার কারণে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে তাঁদের চিহ্নিত করে সেবার আওতায় আনা গেলে সহায়তা প্রদানে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
কর্মশালায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ; জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা; প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি; সুশীল সমাজ সংগঠনের প্রতিনিধি; কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি; সাংবাদিক; ব্র্যাকের প্রতিনিধি এবং ফেরত অভিবাসী উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা এবং শীর্ষস্থানীয় এনজিও ব্র্যাক ১৯৭২ সাল থেকে দেশে ও দেশের বাইরে মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৬ সাল থেকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম দেশের অভিবাসনপ্রবণ জেলাসমূহে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের পুনরেকত্রীকরণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, রেফারেল ও সেবা সংযোগ, অভিবাসন খাতে অ্যাডভোকেসি এবং নানাবিধ সহযোগিতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।
সম্পাদক -জুয়েল রানা লিটন, অফিস : নোয়াখালী প্রেসক্লাব, মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী।