নোবিপ্রবি সংবাদদাতা।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এর আবাসিক হলগুলোতে একের পর এক চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল ও নবাব ফয়জুন্নেসা হলে কাপড় এবং ফ্রিজ থেকে খাবার চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলে দিনদুপুরে শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় হলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী ও হল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুল মালেক উকিল হলের ৩২০ নম্বর কক্ষ থেকে শিক্ষা বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ‘শব্দকুটির’ এর সভাপতি মুজতবা ফয়সাল নাঈমের একটি ল্যাপটপ এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম) বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহমুদুলের একটি নতুন অফিসিয়াল স্মার্টফোন চুরি হয়।
হলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৭টা থেকেই মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরা এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলের বিভিন্ন তলায় ঘোরাফেরা করছিল। একপর্যায়ে সে ৩২০ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে। কক্ষের ভেতরে টেবিলের ওপর রাখা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন নিয়ে বাইরে বের হয়। পরে আবার কক্ষে ফিরে একটি স্কুলব্যাগের ভেতরে ল্যাপটপটি রেখে নির্বিঘ্নে হল ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগী মুজতবা ফয়সাল নাঈম জানান, চুরি হওয়া ল্যাপটপটিতে তার বিগত নয়টি সেমিস্টারের সব একাডেমিক ডকুমেন্ট, চলমান গবেষণা ও প্রজেক্টের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, শব্দকুটির ক্লাবের নথিপত্র, দুটি ম্যাগাজিনের সম্পাদিত লেখা এবং অসংখ্য মূল্যবান ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত ছিল, যার কোনো ব্যাকআপ নেই। এছাড়া মাত্র এক মাস আগে কেনা অফিসিয়াল স্মার্টফোনটিও চুরি হয়েছে। ডিভাইস দুটি উদ্ধার না হলে তার অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার সময় হলের মূল ফটকে কোনো আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন না। অনেক সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের মোবাইল ফোনে টিকটক বা ফেসবুক রিলস দেখতে দেখা যায়, যার সুযোগে বহিরাগতরা সহজেই হলে প্রবেশ করছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা অচল এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থানে কোনো ক্যামেরাই নেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন গাফিলতির দায় হল প্রশাসন এড়াতে পারে না বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট ড. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, নাঈম জিডি করার পর জিডির কপিটি তাঁকে দিয়েছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সিসিটিভির ফুটেজ প্রক্টরকে পাঠিয়েছেন এবং বিষয়টি জানিয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ ও র্যাবে কর্মরত তাঁর কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর কাছেও জিডির কপি পাঠিয়ে বিষয়টি নজরে রাখতে অনুরোধ করেছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হলে প্রয়োজনের তুলনায় সিসিটিভি ক্যামেরা কম রয়েছে। যেখানে যেখানে প্রয়োজন সেখানে নতুন ক্যামেরা বসানো হবে। মেইন গেটের অচল ক্যামেরাটিও দ্রুত মেরামত করা হবে। আরও উন্নত মানের ফুটেজ পাওয়া গেলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সহজ হতো। আগামী সোমবার থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ.এফ.এম. আরিফুর রহমান বলেন, সুধারাম থানার এ ধরনের ঘটনার তদন্তে অভিজ্ঞ কর্মকর্তার সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন। এর আগেও তাঁর সহায়তায় তাদের এক শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া আইফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। নাঈমকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আশা করছেন, কিছুটা সময় লাগলেও ডিভাইসগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
হলের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যলয়ে ৪২ জন স্থায়ী নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। অন্যদিকে আনসার সদস্যরা ছয় মাস পরপর বদলি হওয়ায় তারা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ভালোভাবে চেনেন না। তাই তাদের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের হলগুলোতে দায়িত্ব দিলে বহিরাগতদের শনাক্ত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও সতর্ক থাকতে হবে। রুম ফাঁকা রেখে বাইরে গেলে অবশ্যই তালা দিতে হবে এবং দরজা অযথা খোলা রাখা যাবে না।
ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা জোরদার, সব সিসিটিভি ক্যামেরা সচল করা, প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন ক্যামেরা স্থাপন, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ ফিরে আসবে।