লাইফের যেসব পার্ট বলতে চাইনি কখনো পর্ব-২

নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫

———-ইমরান হোসাইন  তুহিন
১.
ক্যাম্পাসে গিয়া এটাচমেন্ট পাই সূর্যসেন হল। চয়েজ দিয়া সাংবাদিকতা নিই। ছাত্রলীগের হলে হলে গেস্টরুম নির্যাতনের সাথে পরিচিত হতে লাগলাম। শত মেন্টাল প্রেশারে থাকা সত্বেও ছাত্রলীগকে ফেস করার ক্ষেত্রে সবার কাছে আমি বিদ্রোহী হিসেবে ট্রিট হতে থাকি। লীগের প্রোগ্রামে কম যাওয়া, তাদের বিভিন্ন নিয়ম কানুনকে তোয়াক্কা না করার কারণে সবাই আমার উপর খেপতে থাকে। হল থেকে বের করে দেওয়া,অপমান অপদস্থ করাসহ সব ই করত। কিন্তু আমি তবুও ওদের মুখের উপর কথা বলা ছাড়তাম না। সর্বশেষ শাস্তি হিসেবে ফার্স্ট ইয়ার শেষে তারা আমাকে কোনো রুম দেয়নি। জুনিয়রদের সাথে রেখে দিয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল আমি ওদের তেমন মান্য করি না। ওইগুলো ছাত্রলীগের রুম। ওখানে আমার জায়গা হবে না। আমাকে নিজ থেকে রুম দেখে নিতে বলল।
এরপর শুরু হলো আমার ক্যাম্পাসে চমৎকার জার্নি। সাংবাদিকতা শুরু করি। ক্রিয়াশীল সব সংগঠনের সাথে যোগাযোগ হওয়া শুরু হয়। এদিকে ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা সামনে আসে। তার আগে ১৮ সালের কোটা আন্দোলন আমাদের বড় একটি ঘটনার স্বাক্ষী করায়। কিভাবে নুর-রাশেদরা নেতা হয়ে উঠে সেটা দেখলাম। সরাসরি অংশগ্রহণ করেছি লীগকে উপেক্ষা করে। শাহবাগে গিয়ে টিয়ারশেল খেয়ে নজরুলের কবরের পাশে ২ ঘন্টা শুয়ে ছিলাম। চারুকলার গেইট ভাঙ্গতে গিয়ে সেকি এগ্রেসিভ হলাম। আমার বন্ধু রিয়াজ তার স্বাক্ষী। ঘটনাবহুল ১৮ তে কত কিছুর স্বাক্ষী হলাম।
ডাকসু নির্বাচনের সময় আমি তখনও ছোট মিডিয়া ওয়েবসাইট দৈনিক সমাচারের ঢাবি প্রতিনিধি। নির্বাচনে নিজে নিজে সূর্যসেন হল কেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করি। প্রথম বর্ষের পোলাপান দিয়ে লীগ মেকি লাইন তৈরী করে রেখেছিল যাতে করে অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে না পারে। অনিয়ম দেখে প্রিজাইডিংকে জিজ্ঞেস করতে গেলে আমাকে মারধর করে ছাত্রলীগের পোলাপান। এরপর হল থেকে বের করে দিতে চাইলে আমার বন্ধু,ডিপার্টমেন্টের ভাই ব্রাদাররা আমাকে প্রটেক্ট করে। এই হলো ডাকসু নির্বাচন কেন্দ্রিক ছোট অভিজ্ঞতা।
২.
এরপর যতদিন ক্যাম্পাসে ছিলাম মাথা উঁচু করে ছাত্রলীগের চোখে চোখ রেখে সাংবাদিকতা করেছি। কখনো আপোস করিনি। উগ্র সনজিৎ,মেধাবী সাদ্দাম, রাব্বানী,শোভন কাউকে ছাড়িনি। সক্রিয় ও পরিশ্রমী সাংবাদিক হিসেবে সবার প্রিয় মানুষ হয়ে উঠি। আজকের যে তরুণ নেতৃত্ব বিশেষ করে আসিফ-নাহিদ ভাই। উনাদের আমরা শেল্টার হাউজ হিসেবে কাজ করতাম। ক্যাম্পাসে কোথাও হামলা হবে শুনছি তাদের জানাইছি। কোনো শিক্ষার্থীকে আটকে রাখা হয়েছে আমরা ছুটে গেছি। শিক্ষার্থীদের যেকোনো সংবাদের দারুণ কাভারেজ দিয়েছি। সবকিছুর স্বাক্ষ্য ওই সময়ের নেতারাই দেবে। এরপর ২০ সালের শেষ দিকে আমি সাংবাদিকতা ছেড়ে দিই। ফ্রিল্যান্সিং এ সময় দিই। ক্যাম্পাস থেকে ধীরে ধীরে বাড়ি মুখী হই। সংসারের প্রয়োজনেই মূলত টাকার পিছনে ছোটা। করোনার কারণে ধীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাসে না থাকায় বাড়ির প্রতি আলাদা টান অনুভব করি। ২২ সালে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে এলাকায় সেটেল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
৩. এরমাঝে ২০১৯ এর জুনে আমার পরিবারের সাথে ঘটে এক ভয়াবহ ঘটনা। সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে অন্য ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমাদের সব ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে দেয়। ৫ টা দোকান ছিল। তারমধ্যে তিনটা কনফেকশনারি এবং দুটা ফার্মেসী ছিল। উল্টো মামলা দেওয়া হয় আমাদের বিরুদ্ধে। থানায় আমাদের মামলা নেওয়া হয়নি। তৎসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটি আমাকে সাপোর্ট দেয় বিশেষ করে রাশেদ খান দারুণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আহামরি আসলে তাদের কিছু করতে পারতেছিলাম না। পরে অনেক চেষ্টায় কোর্টে মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত করে পিবিআই। মূলত অসহায়ত্ব এ অবস্থায় আমার পরিবার ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আলম সিদ্দিকী রাজুর শরণাপন্ন হন। যদিও তিনি স্বতন্ত্রপ্রার্থী ছিল। মামলায় আমরা সফলতা পাই। রাজু ভাইর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরুপ আমার পরিবারের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরী হয়। এরপর আমি ১ বছর পর বাবার জন্য কেনা একটা গিপ্ট বাবার অনুরোধে উনাকে দিই। এটা তার সাথে আমার প্রথম দেখা। আর ভাইয়েরাও উনাকে সবসময় প্রমোট করতেন। কিন্তু তাদের কারোর ই কোনো পদ পদবী ছিল না। যাস্ট ওইযে কৃতজ্ঞতা স্বরুপ। সে সম্পর্ক সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনেও ছিল। এবারও রাজু স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমি বাড়িতে থাকায় মাঝেমধ্যে উনার অফিসে বসা হয়েছে যেহেতু ওটা আমাদের মার্কেট কেন্দ্রিক ছিল। দ্যাটস অল এবাউট মাই ফ্যামিলি’স রিলেশনশিপ উইথ রাজু। এছাড়া আমাদের ওই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব ছিল জেহানের উপর। সে সুবাদে জেহানের বাসায় একাধিকবার যাওয়া লেগেছে। তার সাথেও আমার ছবি আছে। আজকে এ ছবি নিয়ে যে নোংরামি কিছু ভাসমান হীন মানসিকতার পোলাপান শুরু করেছে। এটা দেখে তোদের প্রতি দয়া হয়। আমি তোদের ভাই। গত ৯ মাস ধরে সব ছেড়ে একটা নতুন রাজনৈতিক স্বপ্নে বিভোর হয়ে সময় দিচ্ছিলাম। এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক আক্রমণ অন্য কোনো দল করেনি। দুদিনের পোলাপান,সুবিধাভোগীরাই শুরু করছিস। আমি নাগরিক পার্টি ছাড়াই এস্টাবলিশ। বাট পরিবর্তনের লক্ষ্যে এখানে আসা। সাংবাদিক ও এক্টিভিস্ট হিসেবে আমার প্রত্যেকটি দল,গোষ্ঠীর সাথে ব্যালেন্সিং সম্পর্ক ছিল। যেখানে যখন প্রয়োজন হয়েছে চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করেছি। কখনো কখনো ভালো কাজে উৎসাহ দিয়েছি অনেককে। যখন সরকার পতনের সুযোগ দেখেছি প্রতিবাদকে দ্বিগুণ করেছি। সাংবাদিকতায় ব্যক করবো বলে সরাসরি মাঠের আন্দোলনে শামিল হতে পারিনি কিন্তু আন্দোলনের তিব্রতা অনলাইন স্ফেয়ারে ছড়িয়ে দিতে কার্পণ্য করিনি।
৪.
এলাকা থেকে ভাড়ার অভাবে আন্দোলনে আসতে পারছিল না অনেক ছোট ভাই। তাদের আর্থিক সাপোর্ট দিয়েছি। যে শহর ছিল মুক্তাঞ্চলের মত সেখানকার আন্দোলন নিয়ে যে ক্রেডিটবাজী হচ্ছে এটা রীতিমত ভয়াবহ। অথচ আমরা ষাঁড়াশি অভিযান,ক্রস ফায়ার দেওয়া সময়ের রাজপথের মানুষ। কাকে আন্ডারস্টিমেট করতেছিস! আমার লেয়ারে আগে আস। আমার বাবা একজন স্বনামধন্য,মর্যাদাবান মানুষ। যিনি জ্ঞানী ও ভালো শালিসদার হিসেবে পরিচিত। ভাইয়েরা স্ব স্ব জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। তাদের কোনো দলের প্রতি সমর্থণ থাকতে পারে। তবে তারা কোনো ধরণের ফৌজদারী অপরাধে ইনভলভ আছে কিনা সেটা সামনে নিয়া আস। তাদের ব্যক্তিগত ইস্যুর সাথে আমার কিসের সম্পর্ক! আর আমি তো কখনো আন্দোলনের স্টকহোল্ডার দাবি করে রাজনীতি করতে আসিনি। আন্দোলনকে বিক্রি করে রাজনীতি করতে আসিনি। আমি মাঠে পরিশ্রম করে রাজনীতি বিনির্মাণ করতেছি। রাজনীতি কি তোদের মত অন্যের পিছনে ফিংগারিং করা ছোটলোকদের জন্য ছেড়ে দেব!
মাইন্ড ইট। যে যেখানে যাওয়ার যোগ্যতা আছে। আল্লাহ তাকে সেখানে পৌঁছাবেন ই। কারণ পরিশ্রমী আর সৎ মানুষের সঙ্গী ভাগ্য হবেন ই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ