সরকারি খালের বালু অবাধে উত্তোলনে হুমকির মুখে শতাধিক পরিবার

নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫

 

একেএম ফারুক হোসেন:

নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের মৃধ্যারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিকের স্বেচ্ছাচারী হটকারি সিদ্ধান্তে ও প্রশাসনের যোগসাজশে বিদ্যালয়ের পাশে বয়ে যাওয়া সরকারি বগাদিয়া খাল থেকে প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট ভিটি বালু উত্তোলন করার অভিযোগ ওঠেছে। আর এতে শতাধিক পরিবারের দিন কাটছে ভয়ে ও আতঙ্কে।বিপুল পরিমানে ভুগর্ভস্হ বালু উত্তোলনের ফলে যেকোনো মুহুর্তে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে মানুষজন দিন পার করছেন বলে জানান এ প্রতিবেদকে।

জানা যায়,গত ২২ আগস্ট শুক্রবার সকাল থেকে দ্রুত বালু উত্তোলন করার উদ্দেশ্য একাধিক মেশিন ব্যবহার করছে। যার ফলে মেশিনের উচ্চ শব্দে ঘুম হারাম অলিপুর ও ধর্মপুর গ্রামের কয়েকশত পরিবারের। স্হানীয় এলাকাবাসী জানায়, মেশিনের উচ্চ শব্দে ঘরে থাকা বৃদ্ধ অসুস্থ রোগী ও শিশুদের সবচেয়ে অসুবিধায় পড়েছে।শনিবার (২৩ আগস্ট) এমন জনভোগান্তির সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্হলে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। প্রতিবেদকদ্বয় বগাদিয়া খাল থেকে ডাবল মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে মৃধ্যারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করতে দেখতে পায়।এসময় মেশিনের দায়িত্ব থাকা অশ্বদিয়ার স্হানীয় যুবক রাকিবের কাছে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায়,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিকের সাথে প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট বালু মৌখিক চুক্তিতে উত্তোলন করছি।এখানে পরিশ্রম বেশি, লাভ কম।সরকারি খালের বালু কিভাবে তুলছেন এমন প্রশ্নে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলার জন্য বলেন।এর আগে স্হানীয় মানুষেরা ঘটনাটি উল্লেখ করে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আঁখি নুর জাহান নীলার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান,গত ২১ আগস্ট বৃহস্পতিবার মৃধ্যারহাট তহসিল অফিস থেকে একজন অফিস সহকারি এসে বালু উত্তোলন বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন,আমাকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি স্যার পাঠিয়েছেন।আপনি কাজ বন্ধ করেন তা-না হলে মেশিন নিয়ে চলে যাবো।
এরপর প্রধান শিক্ষক ওই অফিস সহকারিকে সামনে রেখে কার সাথে যেনো মুঠোফোনে যোগাযোগ করে শুক্রবার থেকে বালু উত্তোলন করাচ্ছেন।তিনি দাবি করেন ফোনটি সহকারী কমিশনারের ভূমির সাথে বলেছিলেন।

 

প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিক বলেন,বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফাণ্ড থেকে ৫টাকা হারে প্রতি ঘনফুট বালু তুলে ভরাট করছি।সহকারী কমিশনার ভূমির নিষেধাজ্ঞার পরও কিভাবে বালু তুলছেন এমন প্রশ্নে তিনি কোনো কথা বলেনি।প্রথমে বালু উত্তোলন বন্ধ ও পরে পূণরায় চালু প্রসঙ্গে জানতে সহকারী কমিশনার ভূমি শাহনেওয়াজ তানভীরকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত জানতে চেয়ে ম্যাসেজ করলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।সদ্য যোগদাকৃত সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) হুমায়রা ইসলামকে পুরো বিষয় জানিয়ে তাঁর মন্তব্য চাইলে তিনি বলেন,আজ আমরা সবাই সচিব স্যারকে নিয়ে ব্যস্ত আছি।তবে আমি বিষয়টি দেখবো বলে এ প্রতিবেদককে আশ্বস্ত করেন। এ রিপোর্ট সন্ধ্যা ছ’টায় পাঠানোরস

ময়েও প্রশাসন থেকে কোনোরকম ব্যবস্হা গ্রহনের তথ্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ