সুবর্ণচরে অবৈধ ইটভাটার ছড়াছড়ি ,পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

এ কে এম ফারুক হোসেনঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় অবাধে চলছে অবৈধ ইট ভাটা।ড্রাম চিমনি অর্থাৎ বাংলা ভাটার জোয়ারে হুমকির মুখে কৃষি উৎপাদন।ড্রাম চিমনি দিয়ে নির্গত কালো ধোয়ায় পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এছাড়া ইট ভাটায় জালানিতে ব্যবহৃত কাঠ পোড়ানোর ফলে শ্বাসকষ্টসহ ছড়িয়ে পড়ছে নানাবিধ রোগবালাই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলায় প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় ৯টি অবৈধ ইট ভাটার কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কেউ কেউ কাঁচা ইট তৈরি শেষ করে ভাটা প্রস্তুতের কাজ চালিয়ে নিচ্ছে ।
আবার কোথাও একাধিক রাউন্ড ইট প্রস্তুত করে সাজিয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে।অভিযোগ রয়েছে অবৈধ ৯টি ইট ভাটার মালিক পক্ষক খুবই তৎপর হয়ে প্রশাসন, মিডিয়া ম্যানেজে মাঠে নেমেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভাটা মালিক প্রতিবেদকের কাছে ম্যানেজের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,”আমাদের হাত -পা বাঁধা, তাই বাধ্য হয়ে অবৈধ ব্যবসাটি পরিচালনা করতে প্রশাসনসহ সাংবাদিকদের ম্যানেজের প্রয়োজনে আমাদের মালিক পক্ষের একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে”। এর আগে গত বছর সুবর্ণচর উপজেলায় অবৈধ ইট ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন ব্যপক অভিযান পরিচালনা করে অর্থদণ্ড এবং ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো।
মেসার্স একেবি ব্রিকসকে ১লক্ষ টাকা জরিমানা, মেসার্স তাহেরা ব্রিকসকে ১লক্ষ টাকা জরিমানার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল, যমুনা ব্রিকস,মেসার্স মুক্তা ব্রিকস,আল্লারদান ব্রিকস ও আলিফ ব্রিকসকে যথাক্রমে ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করে ভাটা গুলো ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। মুক্তা ও তাহিরা ব্রিকসের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়েছিলো পরিবেশ অধিদপ্তর।এছাড়াও মেসার্স আইডা ব্রিকস,মেসার্স আমানত ব্রিকসকে জরিমানা করে ভেঙে দিয়েছিলো প্রশাসন।
অবৈধ ইট ভাটা, পরিবেশ দূষণ,খাদ্য উৎপাদনকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া আসফার সায়মা সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান,আমরা আগামীকালেই অভিযান পরিচালনা করছি।একদিনে হয়তো সবগুলোকে ভেঙে দেওয়া যাবে না।তবে পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ ইট ভাটা গুড়িয়ে দেওয়া হবে।
এবিষয়ে নোয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শওকত আরা কলি, অবৈধ ইট ভাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করার কথা জানান।তিনি বলেন,আমরা প্রস্তুতি নিয়ে আছি অভিযানের জন্য। অভিযান পরিচালনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে অচিরেই এদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ফের ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ