নোয়াখালী প্রতিনিধি:
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের অন্ধ ভক্ত হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত নোয়াখালীর সেই আলোচিত ‘আজাদ মেম্বার’ এবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন।
তবে কোনো ফুটবল উন্মাদনা নয়, মূলত নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এবং উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরে নোয়াখালীর সেনবাগ বাজার এলাকা থেকে সেনবাগ থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আজাদ মেম্বার নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৩নং ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি ওই ওয়ার্ডের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
পেশায় একজন সাধারণ চা বিক্রেতা হলেও ফুটবল বিশ্বকাপ বা কোপা আমেরিকা এলেই তার নাম ছড়িয়ে পড়ত দেশজুড়ে। লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসার টানে তিনি নিজের বাড়ি, দোকান ও আশপাশের এলাকাকে আকাশি-সাদা রঙে সাজিয়ে তুলেছিলেন, যা দূর থেকে দেখতে ‘আর্জেন্টিনা নগর’ মনে হতো। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলে পুরো এলাকাবাসীকে গরু জবাই করে ভোজ খাওয়ানোর ঘোষণাও দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। এই ফুটবল উন্মাদনার কারণে ঢাকার মূলধারার বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয় এবং তিনি স্পোর্টস টকশোতেও অংশগ্রহণ করেন।
আর্জেন্টিনা ভক্ত হিসেবে পরিচিতি থাকলেও আজাদ মেম্বার মূলত আওয়ামী লীগের একজন কট্টরপন্থী তৃণমূল নেতা ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট। পুলিশের দেওয়া তথ্য এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলের শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে চলে গেলেও আজাদ মেম্বার মাঠপর্যায়ে এবং অনলাইনে দলের পক্ষে লাগাতার বক্তব্য ও উস্কানি দিয়ে যাচ্ছিলেন।
গ্রেফতার হওয়ার মাত্র তিন দিন আগেও তিনি ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লাইভে তিনি নিজেকে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক’ দাবি করে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং তাকে বাদ দিয়ে সেনবাগের ২৫ জনের একটি তালিকা (লিস্টি) তৈরি করায় শীর্ষ ও প্রবাসী নেতাদের ‘সুবিধাবাদী’ বলে আখ্যা দেন। শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে দেওয়া এটিই ছিল তার শেষ ভিডিও বার্তা।
এর আগেও রাজনৈতিকসহ একাধিক মামলার শিকার হয়ে তিনি কারাবরণ করেছিলেন।
সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রহিম সরকার জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের হয়ে অনলাইন ও অফলাইনে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার সুনির্দিষ্ট জের ধরেই অবশেষে তাকে উপজেলার সামনে থেকে গ্রেফতার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ।