নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীতে পৃথক স্থান থেকে দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে সোনাইমুড়ী উপজেলায় এক সৌদি প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নাই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড ইসলামগঞ্জ বাজারের ‘গাইন বাড়ি’ এলাকায় চোর সন্দেহে মো. কবির (৪০) নামের এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বিকেলে সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গতকাল সোনাপুর ফিলিং স্টেশন থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কবিরকে শনাক্ত করার পর ইসলামগঞ্জ ডালের বাড়ি থেকে নিয়াজপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীপুর এলাকায় তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে তাঁকে মারধর করা হলে তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে।
নোয়াখালী সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, নিহত কবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। চোর সন্দেহে তাঁকে আটক করে মারধর করা হয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে, সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের আবিরপাড়া এলাকার সামছুল হক মেম্বারের পুরোনো বাড়ির সামনের মাঠ থেকে মো. সজীব (২৪) নামের এক সৌদি প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আবিরপাড়া এলাকার মৃত মো. মালেক ও সেলিনা আক্তারের ছেলে।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন সজীব। বিকেলে ৫টার দিকে মাঠের মধ্যে স্থানীয়রা তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচাতো ভাই রিয়াদ অভিযোগ করে বলেন, গত পরশু স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাং সজীবকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাদের হাত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতাল থেকে প্রবাসীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।