আবদুল জববার, বিশেষ প্রতিনিধি নোয়াখালী
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এনজিও থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করা এক চাষির পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর বৈশাখী গ্রামে, গত মঙ্গলবার রাতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর বৈশাখী গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী ও সিরাজ টেলিকমের মালিক সিরাজ উদ্দিন তিনটি ঘেরে চিংড়ি, পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, রুই ও কাতলা প্রজাতির মাছ চাষ করছিলেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে অজ্ঞাত কেউ তার পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেটসহ বিষ প্রয়োগ করে। পরদিন সকালে পুকুরজুড়ে মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী চাষি সিরাজ উদ্দিন বলেন, “আমি কয়েক বছর ধরে মাছ চাষ করছি। প্রতিদিনের মতো সেদিনও বিকেলে মাছগুলিকে খাবার দিয়েছিলাম। রাতে এসে দেখি সব মাছ মরে ভাসছে। আমার তিনটি ঘেরে চাষ করা চিংড়ি, পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই ও কাতলা মাছ বাজারজাত করার উপযোগী ছিল। কেউ শত্রুতাবশত পুকুরে বিষ দিয়েছে। এতে আমার প্রায় ৫–৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “দুই মাস আগে একটি এনজিও থেকে তিনটি ঘের দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। সাতক্ষীরা ও কুমিল্লা থেকে মাছ এনে ছাড়ি। এখন আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি। যারা আমার এত বড় ক্ষতি করেছে, প্রশাসনের কাছে তাদের বিচার চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস শিকদার বলেন, “সিরাজ উদ্দিন মাছ চাষ করে পরিবার চালান। এভাবে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা অত্যন্ত অমানবিক। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।”
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফয়জুল ইসলাম বলেন, “চাষি সিরাজ উদ্দিন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভবিষ্যতে সরকারিভাবে তাকে প্রণোদনা বা অন্যান্য সুবিধায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
চরজব্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অভিজিৎ দাস বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা জেনেছি। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”