মোহাম্মদ উল্যাহ্ ভূঁইয়া
নোয়াখালীর চাটখিলে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে যুবদলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ইটপুকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার প্রতিবাদে রাতেই চাটখিল পৌর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। পরে বিএনপি নেতাকর্মীরাও পাল্টা বিক্ষোভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা ছাইফ উল্লাহর বৈকুন্ঠপুর স্কুল মাঠ ও রামনারায়ণপুর লাল মসজিদের সামনে পূর্বনির্ধারিত গণসংযোগ চলছিল।
এ সময় কিছু যুবদল নেতা-কর্মী সেখানে বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হামলার সময় ভিডিও ধারণে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদেরও বাধা দেওয়া হয়।
ঘটনায় রামনারায়ণপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আব্দুল মান্নান (৩৪), নাহিদ (২২)সহ ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে মান্নান ও নাহিদকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
রামনারায়ণপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হুমায়ুন কবির সুমন অভিযোগ করে বলেন, “স্থানীয় যুবদল নেতা রিয়াদের নেতৃত্বে আমাদের গণসংযোগে কোনো কারণ ছাড়াই হামলা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্যদিকে, চাটখিল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছ আহমেদ হনিফ বলেন, “ইটপুকুরিয়া গ্রামে জামায়াত নেতারা মসজিদে ভোট চাইতে গেলে স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি বাধা দেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কি থেকে ঘটনাটি ঘটে।” তিনি দাবি করেন, এতে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের পাঁচজন আহত হয়েছেন।
চাটখিল উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা ওমর ফারুক বলেন, “যুবদলের নেতারা আমাদের শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে হামলা চালিয়েছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী যেকোনো পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।”
নোয়াখালী-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা ছাইফ উল্লাহ বলেন, “শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যুবদল কর্তৃক পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ
উদ্দিন বলেন, একজন প্রার্থীর নির্বাচনী গণসংযোগে হামলার অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।