ছায়েদ আহামেদ ,হাতিয়া।
মিথ্যা তথ্য প্রদান ও অবৈধ ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে পারিবারিক ওয়ারিশ সনদ থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন মো. রায়হান(৩৯) নামের এক ভুক্তভোগী।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে হাতিয়া প্রেসক্লাব-এ এই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তার স্ত্রী আইরিন আকতার, তিন শিশু সন্তান ও কয়েকজন প্রতিবেশী উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী মো. রায়হান হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মন্নান ও জাহানারা বেগমের সন্তান। পিতা-মাতার ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
সংবাদ সম্মেলনে মো. রায়হান অভিযোগ করে বলেন, তার পিতা পারিবারিক ওয়ারিশ সনদ করতে গেলে- অন্য ভাইবোনদের প্ররোচনায় এবং অবৈধ অর্থের বিনিময়ে ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. আলতাফ হোসেন ও ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) নিজাম উদ্দিন ওয়ারিশ সনদ থেকে তার নাম বাদ দেন। এতে তিনি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি আরও বলেন, চলমান মুক্তিযোদ্ধাদের পারিবারিক/ওয়ারিশ সনদ এমআইএস ভুক্তকরণ কর্মসূচির আওতায় তাকে পরিবারের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, এর আগেও তার ভাই সেনাসদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহিম, পুলিশ সদস্য শরীফ উদ্দিন ও মো. আবদুর রবের দ্বারা একাধিকবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পিতার সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে ভাইদের সঙ্গে তার দুই বোন- সোলতানা আক্তার ও শাহেনা বেগমও যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়—হাতিয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী আওরঙ্গজেব স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী মো. রায়হান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মন্নানের প্রকৃত সন্তান। তার পিতার মুক্তিবার্তা নম্বর ০২০৯০৬০১৭৯।
এছাড়া ২০০৪ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেট নম্বর-২৯৩৭, সাময়িক সনদ নম্বর ম-৪৫৫০০ এবং ২০১০ সালের ভোটার তালিকা নম্বর-১৬৭-এও তার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।