নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের পশ্চিম বাহাদুরপুর গ্রামে ১১২ বছরের পুরোনো চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ১১ ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণের অভিযোগে সাতটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল।
এ নিয়ে ‘ দৈনিক নয়া সকাল পত্রিকা ও ডিজিটাল’-এ সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে নোয়াখালী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনেওয়াজ তানভীর ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলাচলের পথ ও জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় জমি ও রাস্তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
তবে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরুদ্ধ সাতটি পরিবারের চলাচল নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটি বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে ওই পথটি ব্যবহার করে পরিবারগুলোর চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।
দেয়াল নির্মাণকারী প্রতিবেশী হারুনুর রশিদ মিলন বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চাই। এই জায়গা আমার মানবিক কারণে আমি তাদেরকে চলাচলের পথ দিয়েছিলাম কিন্তু তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করায় আমি পথটি বন্ধ করে দিয়েছি । আজকে এসিল্যান্ড স্যার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, আমি তা মেনে নিয়েছি। মানবিক কারণে আমার বিকল্প জায়গা দিয়ে তাদের পথ দিয়ে তাদের চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’
নোয়াখালী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনেওয়াজ তানভীর বলেন, ‘চলাচলের পথ ও জমি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে। তবে বর্তমানে সাতটি পরিবারের চলাচলের জন্য বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা এখন ওই পথ দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাতটি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে আপাতত তাদের চলাচলের সংকটের সমাধান হলেও বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তি আদালতের রায়ের পরই হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।