শিরোনাম:
নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে ৫ লাখ ৭৬ হাজার শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রবেশপত্রে ছবি জালিয়াতি করে কর অঞ্চলের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, যোগদান করতে এসে আটক শিক্ষা ক্ষেত্রে আমরা কোন বৈষম্য চাই না : শিক্ষামন্ত্রী . নিরাপত্তা চাইলেন সম্পাদক জাবেদ আলম কিরণ নোবিপ্রবিতে ডিনস অ্যাওয়ার্ড নিয়ে বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ পুরোনো ভিডিও দিয়ে নোয়াখালীতে মিছিলের গুজব ছড়াচ্ছে আ.লীগ: পুলিশ সুপার ​৩০ বছর ভিক্ষা করে বাঁচিয়ে রাখা আসিয়ার সন্তানও চলে গেল ভিক্ষা করে ৩০ বছর বাঁচিয়ে রাখা আসিয়ার সন্তান চলে গেল নোবিপ্রবি উপাচার্যের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়
শিক্ষক লাঞ্ছনা ও ভাঙচুর: নোয়াখালী কলেজ ছাত্রদলের ৫ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
​নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের শারীরিক হেনস্তা, হত্যার হুমকি এবং অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।

অভিযুক্ত চার নেতার বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও পদ স্থগিতের আদেশের পাশাপাশি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকেও শোকজ করা হয়েছে।
​গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন সস্ত্রীক দাপ্তরিক কাজে কলেজে আসেন। ওই সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.বি.এম. ছানা উল্লাহ এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বসলে বর্তমান সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালায়।

​হামলাকারীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং শিক্ষকদের খাবার খেতে বাধা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এ সময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের ওপর শারীরিক আক্রমণ চালিয়ে তাঁর শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

​এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ ৩০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়েছে।

সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বর্তমান সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনের বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় কেন তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​শিক্ষকদের ওপর এই হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে নোয়াখালী সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এই তড়িৎ পদক্ষেপের পর তারা কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনবেন কি না, এবিষয়ে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন ৪ দফা মধ্য একদফা আংশিক পূরন হয়ছে। আমরা শিক্ষক পরিষদ বেলা ১২ টায় জরুরি মিটিং বসে পরবর্তী কমর্সুচী ঘোষণা করবো।

এদিকে বেলা ১১ টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।

​উল্লেখ্য ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদন করেছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের এই কঠোর পদক্ষেপকে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।