
নয়া সকাল প্রতিবেদক :
সাধারণ জনগণের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে নোয়াখালীর ১০নং অশ্বদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বাবলু (৫৫) ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুবর্ণা আক্তার (৩৯)-এর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটি ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় রুজু করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে দুদকের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল নোমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা জন্ম নিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যু সনদ এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রদান বাবদ ২৯১ জন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোট ৭৩ হাজার ৮৫০ টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেন। তারা পরস্পরের যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে এই টাকা আদায় করে আত্মসাতের চেষ্টা করেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে একটি দল চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি ছদ্মবেশে ১০নং অশ্বদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বাবলুকে পাওয়া যায়নি, কারণ তিনি ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে পলাতক ছিলেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুবর্ণা আক্তারও অনুপস্থিত ছিলেন, কারণ তিনি গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত বিভাগীয় প্রশিক্ষণে ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন সঞ্জীত কুমার কর্মকার।
অভিযান চলাকালে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জীত কুমার কর্মকার ও আউটসোর্সিং কর্মচারী অনিতা রানী শীল জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদসহ বিভিন্ন পেন্ডিং আবেদনপত্র বের করে আনেন। প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে ১০০ থেকে ২০০ টাকা স্ট্যাপল অবস্থায় পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, এই টাকা চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বাবলু ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুবর্ণা আক্তারের নির্দেশে সংগ্রহ করা হয়।
সঞ্জীত কুমার কর্মকার আরও জানান, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন সম্পন্ন করার জন্য চেয়ারম্যান এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তার দুটি পৃথক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হতো। অভিযানের সময় ২৯১টি আবেদনসহ মোট ৭৩ হাজার ৮৫০ টাকা জব্দ করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, এই অর্থ চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বাবলু ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুবর্ণা আক্তার পরস্পরের যোগসাজশে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে রেখেছিলেন।