পৌরসভার টোল আদায়ের নামে নোয়াখালী পৌর এলাকায় সড়কের যত্রতত্র চলছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। টাকা না দিলেই মারধর আর হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। টার্মিনাল ইজারার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইজারাদারের লোকজনের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির দৃশ্য দেখেও নীরব প্রশাসন। ইজারার সবগুলো শর্ত ভঙ্গ হলেও অদৃশ্য কারণে নেয়া হচ্ছেনা কোন ব্যবস্থা। ইজারাদারের অনিয়মের সাথে পৌরসভার এক কর্মচারীরও যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে নোয়াখালী পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পৌর এলাকায় দিন-দুপুরে প্রধান সড়কে সিএনজি, বাস, ট্রাক সহ অন্যান্য যানবাহন থামিয়ে টোল আদায়ের নামে নেয়া হচ্ছে টাকা। প্রতিদিন পৌর এলাকার প্রায় ১৩ টি স্থানে সড়কের উপর যানবাহন থামিয়ে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় টোলের নামে এমন চাাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ যানবাহন চালকরা। টাকা দিতে না চাইলে বাক-বিতন্ডা, গাড়ি আটকিয়ে রাখা ও মারধরের অভিযোগও রয়েছে। সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনকে একাধিকবার জানালেও ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ চালকদের
নোয়াখালী পৌরসভা সূূত্রে জানা যায়, পৌরসভার মালিকানাধীন সোনাপুর আধুনিক বাস-টার্মিনালটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১ বছর মেয়াদে ২৩ লাখ টাকায় ইজারা নেন আইয়াস এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ জহিরুল ইসলাম। যেটি কার্যকর হয়েছে চলতি বছরের ১লা জুলাই। টোল আদায়ের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে ইজারাদারের সাথে ২০ টি শর্ত যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এসব শর্তের অধিকাংশই মানছেন না ইজারাদার।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, ইজারাদারের জন্য টোল আদায়ের যেসব স্থান নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে সেগুলো হল- সোনাপুর পৌর আধুনিক বাস টার্মিনাল, সোনাপুর জিরো পয়েন্ট, সোনাপুর ইসলামীয়া রোড, দত্তবাড়ির মোড়, মাইজদী ইসলামিয়া রোড, জর্জ কোর্ট সংলগ্ন রাস্তা, মাইজদী কোর্ট মসজিদ সংলগ্ন (কাউয়া রোড), সুপার মার্কেট সংলগ্ন পূর্ব ও পশ্চিম পাশে, মাইজদী নতুন বাস স্ট্যন্ড, হাসপাতাল রোড ও মাইজদী বাজার।
শর্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্থান ব্যতীত রাস্তায় চলমান যানবাহন থামিয়ে যত্রতত্র টোল আদায় করা যাবেনা। কিন্তু ইজারাদারের লোকজন সেটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের খেয়াল খুশিমতো সড়কেই গাড়ি থামাচ্ছেন। চুক্তিপত্রে রয়েছে টোল আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারি হার মানার কথা।
নোয়াখালী পৌরসভার তথ্য মতে, সিএনজি থেকে আদায়কৃত টোল হার ১০ টাকা হলেও নেয়া হচ্ছে ১৫ টাকা করে। এছাড়া ছোট বাসের জন্য ২০ টাকা, বড় বাসের জন্য ৩৫ টাকা, মাইক্রো বাসের জন্য ১০ টাকা ও রাইডারের জন্য ২০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সবগুলো যানবাহন থেকেই ইজারাদারের লোকজন আদায় করে নিচ্ছেন দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ অর্থ। ‘পৌরসভার টোল আদায়কারী’ পরিচয়ে যে পোশাক পরে সড়কে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে সেটিরও কোন অনুমতি নেই।
হয়রানীর ভয়ে নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যানবাহন চালক জানান, রাস্তায় চলমান গাড়ি থামিয়ে তাদের থেকে টোলের নামে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে ইজারাদারের লোকজন। অতিরিক্ত টাকা না দিলেই তাদের হেনস্থার শিকার হতে হয়। অনেক সময় ইজারাদারের লোকজন চালকদের মারধর করে গাড়ি আটকিয়ে রাখেন। টাকা না দিলে তাদের দেখানো হয় পুলিশের ভয়। তাই চালকরা নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এসব নিয়ে কিছু বলতে সাহস পাননা। বাধ্য হয়ে দাবীকৃত অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়।
ইজারার শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে ইজারাদার ও আইয়াস এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ জহিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ইজারার কোন শর্ত ভঙ্গ করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস পৌর কর্তৃপক্ষের। জানতে চাইলে নোয়াখালী পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন জানান, পৌরসভার পক্ষ থেকে টার্মিনাল ইজারা দেয়ার সময় তাদের সাথে ২০ টি শর্তযুক্ত চুক্তি হয়েছে। সেসব চুক্তি যদি ইজারাদারের পক্ষ থেকে না মানা হয় তাহলে আমরা যাচাই-বাছাই করে শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবো।