ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া (নোয়াখালী)।
দাম বেশি তবুও চাহিদার তুলনায় খুব কম পাওয়া পাচ্ছে, আবার অনেকে দুই সপ্তাহ ঘুরে সামান্য সার পাচ্ছে না- ইউরিয়া সার নিয়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার কৃষকদের এমন অসংখ্য অভিযোগ। এ বছর ইউরিয়া সারের এমন তীব্র সংকট তারা অতীতে কখনো দেখেনি বলে জানান। কৃষকরা প্রতিদিন সার ডিলারদের দোকানে এলেও সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন। কেউ কেউ সামান্য সার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। ওছখালী ও তমরোদ্দি সাব ডিলার মোকামে মারপিট ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাতিয়ার সর্বত্রই সারের জন্য এমন হাহাকার চলছে।
রোববার (০৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার সময় ওছখালী বাজারে পৌরসভার সাব ডিলার এমরানের দোকানে সার বিতরণ করা হয়। এসময় পৌরসভা এলাকা ও তমরোদ্দি ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে একজনের সার্ট ছিড়ে ফেলা হয় এবং আরেকজন চাপে পড়ে ঘটনাস্থলেই মল ত্যাগ করে ফেলেন। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- পৌরসভার কৃষকরা হাতে আইডি কার্ড নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পায়নি অসংখ্য কৃষক।
বুধবার তমরোদ্দি বাজার সাব ডিলার নিজাম চৌধুরীর মোকামে সারের জন্য দোকান ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটছে। পুলিশ উপস্থিত থেকেও পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হয়েছে।
নিজাম চৌধুরী বলেন, “সার পেয়েছি ৯০০ বস্তা, মানুষ হলেন তিন হাজার- বাকি সার আমি কোত্থেকে দেবো।”
তিনি উপজেলা সার ডিলার কল্যাণ সমিতির সভাপতির দায়িত্বে আছে দাবি করে বলেন,’অক্টোবরে ২ হাজার ৫০০ টন চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৫৩৯ টন ইউরিয়ার বরাদ্দ পেয়েছেন। বরাদ্দ কম হওয়ায় ডিলাররা সার বিতরণে হিমশিম খাচ্ছেন এবং কৃষকদের রোষের মুখে পড়ছেন।’
এদিকে, উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়ন খালেক মার্কেট এলাকার বাসুদেব চন্দ্র দাস(৬৫), তমরোদ্দি খাসের হাট এলাকার আব্দুল মাজেদ(৪৫), পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডের সোহেল(২৫),সাহাব উদ্দিন(৩৫), ০৮নং ওয়ার্ডের হাসেম(৫০) আরও অসংখ্য কৃষক প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেন, এবছরের মতো সারের সংকটে আর কখনো পড়েননি। সাব ডিলাররা এক বস্তা সার ১ হাজার ৪৫০ টাকা বিক্রি করেন, খুচরা বিক্রেতারা সুবিধামতো ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। সেই সাথে একই পরিমাণ দামে কীটনাশকও চেপে দিচ্ছেন। যেখানে ভেজাল কীটনাশকও সয়লাব। তবুও সার পাওয়া যাচ্ছে না। ৮ বস্তা চাহিদার বিপরীতে ১ বস্তাও পেতে কষ্ট হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা সার সংকটের কারণে এবার আমনের উৎপাদন কম হতে পারে।
বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ হাতিয়া উপজেলার মোট আয়তন ২ হাজার ১০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি, যা পুরো নোয়াখালী জেলার প্রায় অর্ধেক। এখানে আবাদী জমির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় সারের চাহিদাও বেশি। কিন্তু সে অনুযায়ী হাতিয়ায় সারের বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি। অন্যান্য উপজেলার সমান বরাদ্দই দেওয়া হচ্ছে। ফলে সংকট ক্রমেই ঘনীভুত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবুজ জানান, এবার হাতিয়ায় ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এরমধ্যে পৌরসভা এলাকায় ৩ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে আবাদ। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ৩ হাজার ৩৫০ টন সারের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ১ হাজার ৪৭৪ টন।
নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে তিনি নতুন যোগদান করেছেন। হাতিয়ার বিষয়ে এবারের পরিকল্পনা ভুল ছিল। সামনের সময় থেকে সঠিক পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। এবং চলমান সার সংকট সপ্তাহ খানেকের মধ্যে কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।