শিরোনাম:
নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন হারুনূর রশিদ আজাদ।  নোয়াখালীতে ‘সার নীতিমালা-২০২৫’ বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন হিযবুত তওহীদের দুই সদস্য হত্যার ১০ বছরেও বিচার হয়নি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছেন ফারিহা খন্দকার চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান কোম্পানীগঞ্জে প্রকল্প পরিদর্শনে নোয়াখালী আসছেন দুই মন্ত্রী সোনাইমুড়ীতে নিখোঁজের ২ দিন পর ডোবায় মিলল শিশুর মরদেহ কবিরহাট উপজেলায় ধানের শীষের উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ নোয়াখালীতে ৬ দফা দাবিতে ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির স্মারকলিপি  দালাল ধরে দিলেই পুরস্কারের ঘোষণা করলেন কোম্পানীগঞ্জ সহকারী কমিশনার

নোয়াখালীতে বিএনপি নেতা ফখরুলের পদবী নিয়ে বিভ্রান্তি

নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

নয়া সকাল প্রতিবেদক:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা ও নোয়াখালী-০৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের দলীয় পদবী নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড়ে চায়ের টেবিল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এখন সরগরম।

সম্প্রতি (২৬ অক্টোবর) দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে মতবিনিময় সভায় ডেলিগেটেড কার্ড প্রদর্শন করেন ফখরুল ইসলাম। সেখানে লেখা থাকে ‘মো. ফখরুল ইসলাম, সদস্য-নোয়াখালী জেলা বিএনপি’, সেই থেকে আলোচনা সমালোচনার সূত্রপাত।

নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গেল ৫মে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু সেই ৩৭সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের। কিন্তু নতুন করে এমন পরিচয় বহন করায় এখন জনমনে প্রশ্ন ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে যে আসলেই মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের পদবী কি ?

একদিকে ফখরুল ইসলামের অনুসারীরা নিজেদের নেতার জেলা বিএনপিতে সদস্য অন্তর্ভুক্তির আনন্দে উদ্বেলিত আর অপরদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা প্রশ্ন তুলছেন কবে কখন কোথায় কিভাবে ফখরুল সাহেব জেলা বিএনপির সদস্য হয়েছেন ? এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উভয় পক্ষের পোস্ট পাল্টা পোস্টে সরগরম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

এবার দলীয় নেতাকর্মীদের জানান দিয়েছেন ফখরুল ইসলাম নিজেই। তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুকে পোস্ট করেছেন, সম্প্রতি নিজ এলাকায় একটি মহিলা সমাবেশে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার ভিডিও। অনুষ্ঠানের স্টেজের ব্যানারে দেখা যায় ফখরুল ইসলামকে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে।

এবার আরেকটু বেশিই উত্তপ্ত হয়ে উঠলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। খালেদ সাইফুল্লাহ নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী তার পোস্টে সেই ডেলিগেটেড কার্ডের ছবি দিয়ে লিখেছেন, “শেষ পর্যন্ত প্রতারণার অভিযোগ মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য পরিচয়ে ডেলিগেটেড কার্ড সংগ্রহ”।

ফিরোজ আলম মিলন (ইংরেজি) নামে আরেক ফেসবুক ইউজার তার ফেসবুক পোস্টে নিউজ আকারে তথ্যবহুল একটি পোস্টে যা লিখেছেন তার অংশবিশেষ হলো,
“সম্প্রতি নোয়াখালী জেলা বিএনপির রাজনীতিতে এক ধরনের বিভ্রান্তি ও অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। আলহাজ্জ্ব ফখরুল ইসলাম নিজেকে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় ও কোম্পানীগঞ্জে এক মহিলা সমাবেশের ব্যানারেও তাঁর নামের পাশে একই পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে, আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো, বিএনপির মিডিয়া সেল থেকেও সম্প্রতি ফখরুল ইসলামকে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নোয়াখালী জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কোন আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি যে, ফখরুল ইসলাম আসলেই জেলা বিএনপির বৈধ সদস্য কিনা ? এই নীরবতা ও অস্পষ্টতা মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে”।

এমন পোষ্টের পরিপ্রেক্ষিতে মো. জসিম উদ্দিন আলমগীর (ইংরেজি) নামে আরেকজন লিখেছেন, “কেন্দ্র থেকে উনার কার্ডে নাম দিয়েছে। উনার কি করার আছে। তুমি মির্জা ফখরুল ইসলাম ও শামীম সাহেব কে জিজ্ঞাসা কর। আর না হয় তোমার নেতাকে বলো বহিস্কার করে দিতে। না হয় তুমি করে দাও”।

মো. মোস্তফা (ইংরেজি) নামে আরেক ফেসবুক ইউজার মন্তব্য করেছেন, “থাক ভাই
ভূলে লিখেছে এধরনের কিছু না থাকলে আলোচনায় কিভাবে থাকবে”। এভাবে আলোচনা সমালোচনায় সরগরম চায়ের টেবিল ও পোস্ট পাল্টা পোস্টে মুখরিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।

এ বিষয়ে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য হওয়া আমি ফখরুল ইসলামের জন্য এমন বড় কিছু নয়, তাই এ বিষয়ে আমি এত উৎসাহী নয়। তবে যাদের এ বিষয়ে মাথাব্যথা আছে তাদের যদি হেডম থাকে তারা কেন্দ্র থেকে খবর নিতে পারেন। কবে কখন কিভাবে সদস্য হলেন এমন প্রশ্নে ফখরুল সাহেব বলেন, আমার সদস্য পদতো আমি নিজে দিতে পারি না, সেদিন কেন্দ্রের গুলশান কার্যালয় থেকে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে আমার নামে কার্ড ইস্যু হয়েছে। এটাতো আমি নিজে বানাইনি। কেন্দ্র থেকে দেয়া হয়েছে। তো আপনাদের জানার ইচ্ছা থাকলে আপনারা কেন্দ্রে ফোন দিয়ে জেনে নিন।

অবশেষে এ বিভ্রান্তি নিয়ে জানতে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহবায়ক মাহবুব আলমগীর আলো ও সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদকে ফোন করা হলে তাদেরকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক অ্যাডভোকেট এ বি এম জাকারিয়া জানান, সেদিন তারেক রহমানের সাথে মতবিনিময় সভায় ফখরুল সাহেবকে কেন্দ্র থেকে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। তবে কি ফখরুল সাহেব বর্তমানে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য কিনা ? এমন প্রশ্নে তিনি জানান এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ