নোয়াখালী :
হাতিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে ষড়যন্ত্রকারী এনপিপি নেতাদের বিরুদ্ধে আবারও মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) রাতে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “এনপিপির শীর্ষ নেতাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে বলেছি—ঘটনা যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে আমরা অবশ্যই দোষীদের শাস্তি দাবি করছি। কিন্তু এটি যদি মিথ্যা হয়, তবে যারা এই সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করব।”
তিনি আরও বলেন, হাতিয়ার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে ধর্ষণের ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে, আমাদের ধারণা সেটি এখন পর্যন্ত মিথ্যা। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বিরোধিতা করেছিলেন উল্লেখ করে বলেন, “পারুল বেগম ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। এখনও যদি একই কারণে কেউ এমন নির্যাতনের শিকার হয়, তবে তা অবশ্যই বিচারযোগ্য। কিন্তু মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলে জেলা হিসেবে আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষক নিয়োগের সমালোচনা করে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ শাসনামলে এমন অনেককে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং শিক্ষক হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা রাখেন না। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে বলেন, “যাকে আমি একসময় টিউশনি করার জন্য পাঠিয়েছিলাম এবং যার পড়ানোর মান ছিল নিম্নমানের, তিনিও আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।” তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান যেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে এসব নিয়োগের প্রকৃত যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া জাতির সামনে তুলে ধরা হয়।
শহীদ হাদী হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল খুনিদের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময় এনপিপি, জামায়াত ও শিবির প্রকৃত খুনিদের বিচার না চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে মির্জা আব্বাসের নাম জড়িয়ে ভিন্ন গল্প তৈরি করেছিল।
বর্তমান সরকারের প্রশংসা করে নাছির উদ্দীন বলেন, সফল কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে খুনিদের বিদেশ (ভারত) থেকে গ্রেপ্তার করা সরকারের একটি বড় সাফল্য। তবে খুনিরা ধরা পড়ার পরও ইনকিলাব মঞ্চ, জামায়াত বা শিবিরের নেতারা সরকারকে কোনো ধন্যবাদ না জানিয়ে নীরব থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জেলার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নোয়াখালীর ঐতিহ্য ও সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধ, শিক্ষা-চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিমানবন্দর স্থাপন এবং রেল সংযোগের মানোন্নয়ন জরুরি। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের জেলায় আমন্ত্রণ জানিয়ে সুরাহা করা হবে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান একজন সৎ রাজনীতিবিদ। তিনি কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি পছন্দ করেন না। জেলার দুর্নীতির অনুসন্ধানী খবরগুলো সাংবাদিকদের মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশিত হবে বলে আমি আশা করি।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল মোতালেব আপেল, অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ এবং জেলার কর্মরত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।