শিরোনাম:
নোয়াখালীর আন্ডারচরে ফাঁড়ি থানা স্থাপনের দাবি এলাকাবাসী প্রতিবেশীর ইঁদুর মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রবাসীর মৃত্যু বিষাক্ত ধাতু মুক্ত হচ্ছে, ভবিষ্যতের জন্য নতুন হুমকি নোবিপ্রবির মেগা প্রকল্প সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চায় শিক্ষার্থীরা ৮ দফা দাবিতে নোয়াখালীতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে এটিআই শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি ব্যবসায়ীকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে দুটি বাস পুড়ে চাই। ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে চোর সন্দেহে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ নোবিপ্রবির তৃতীয় একাডেমিক ভবনসহ ৩৩৪ কোটি  ৪৬ লক্ষ টাকার প্রকল্প একনেকে পাশ গ্লোবাল লিডার ইন এক্সপোর্ট অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত মওদুদ এলাহী

তদবির না রাখায় নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার দুদুকে চিঠি

নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫

নায়া সকাল প্রতিবেদক:
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের জেলা সভাপতি ও বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ’এর প্যাডে দুদকে চিঠি দেন
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের জেলা সভাপতি ও বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ’এর প্যাডে দুদকে চিঠি দেন
নোয়াখালীতে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠি দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের জেলা সভাপতি ও বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। তাও আবার ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ’এর প্যাডে দুদকে এ চিঠি দেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডের আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন আবুল কালাম আজাদ। দুদকে পাঠানো চিঠিতে লেখা অভিযোগগুলোর শুরুতেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গত ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নোয়াখালী জেলা ইউনিটের অফিশিয়াল প্যাডে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়। একইসঙ্গে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে চিঠিটির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার অধিদফতরের বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার কারসাজি, ঘুষ গ্রহণ, ভুয়া বিল প্রদর্শন ও অতিরিক্ত দামে কাজ পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের হয়রানি ও জিম্মি করার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিল উত্তোলন ও জামানত ছাড় করার সময় শতকরা ৫ শতাংশ ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এভাবে প্রতি প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া কিছু কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের কোটেশন কমানো বা বাড়ানোর মাধ্যমে ‘সেটিং’ করে টেন্ডার অনুমোদন দেওয়া হয়।
চিঠিতে ‘এই দুর্নীতির কারণে সরকারের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে, সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’ উল্লেখ করে  নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
চিঠিটির প্রথম পয়েন্টে মুক্তিযোদ্ধা দলের এই নেতা উল্লেখ করেন, গত ১১ আগস্ট তিনি স্থানীয় ছনখোলা দরবেশ সাহেবের মাজারের জন্য একটি পানির প্রকল্পের আবেদন নিয়ে গেলে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম।
সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দুজন জানান, ১১ আগস্ট দুপুরে আবুল কালাম আজাদ নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গিয়ে একটি কাজের তদবির করেন। এতে আপত্তি জানালে প্রকৌশলীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। সেইসঙ্গে প্রকৌশলীকে গালিগালাজ করে মারতে উদ্যত হন। একপর্যায়ে আবুল কালাম ফোন করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে সেখানে আনলে তারা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। প্রধান ফটক আটকে মব সৃষ্টি করেন। এ অবস্থায় প্রকৌশলী পুলিশকে জানালে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। একই সময়ে বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত হন। পরে দুই পক্ষের সমঝোতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সেদিন সমঝোতা বৈঠকে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু, যুবদলের জেলা সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খানসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারাও বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে দুদকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন।
ব্যক্তিগত বিরোধে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্যাডে চিঠি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ বলেন  ‘যেহেতু আমি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক তাই ওই সংসদের প্যাডেই দুদকে চিঠি দিয়েছি। সেদিন নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে সম্মান না দেওয়ায় গালিগালাজ করেছি। তিনি যখন আমাকে পুলিশের ভয় দেখিয়েছিলেন তখন আমার লোকজন উত্তেজিত হয়েছিল এটা সত্য। আমরা গত ১৭ বছর কোনও দফতরে যেতে পারিনি। এখনও যদি সরকারি কর্মকর্তারা আমাদের কথা না শোনেন তাহলে আর কখন শুনবেন।’
এ বিষয়ে জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ