হাতিয়ায় ফের স্প্রে পার্টির হানা, প্রায় প্রতিদিন সর্বস্ব হারাচ্ছে মানুষ

নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫

 

ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া(নোয়াখালী)।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে প্রায় প্রতিদিনই স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে অজ্ঞান পার্টি। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মোল্লা বাড়িতে এমনই এক হামলায় দুই কিশোর অজ্ঞান হয়ে পড়েন। অচেতন অবস্থায় তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগীরা হলেন—স্থানীয় ব্যবসায়ী কামরুল ইসলামের ছেলে আবু তালাহ্ (১৬) ও তার দোকানের কর্মচারী বাকির (১৯)।

এর আগে একই বাড়িতে গত ২৮ অক্টোবর রাতে চেতনানাশক ব্যবহার করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়ে যায় চক্রটি।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ইনসাফ বস্ত্র বিতানের মালিক কামরুল ইসলামের বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা জানালা কেটে প্রবেশ করে। ঘুমন্ত পরিবারের সদস্যদের ওপর চেতনানাশক স্প্রে করে তারা দুই লাখ টাকা, নয় ভরি স্বর্ণালংকার, দুইটি মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

গতরাতে (৩০ অক্টোবর) একই কায়দায় ফের হামলা চালায় চক্রটি। এবার কামরুলের ছেলে ও কর্মচারী ঘরে ঢুকতেই মুখোশধারী সদস্যরা তাদের ওপর স্প্রে করে অজ্ঞান করে ফেলে। পরিবারের অন্য সদস্যরা টের পেয়ে চিৎকার করলে এ চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আকরাম হোসেন ও ফখরুল ইসলামসহ অনেকে লিখেছেন, “হাতিয়া এখন পুরোপুরি স্প্রে পার্টির দখলে।”

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, “আমার বাসায় আগের ডাকাতির ঘটনায় বাবলু নামে একজনকে হাতেনাতে ধরিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তাই চক্রটি আবারও হামলা চালিয়েছে।”
ভুক্তভোগীর জেঠাতো ভাই ও চরইশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম আজাদ বলেন, “যারা আগেরবার হামলা চালিয়েছিল, তারাই আবার করেছে। আমরা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চাই।”

হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত ধরার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, এসব ঘটনার আগে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিক ও জামাল মাস্টারের ঘরে চেতনানাশক ব্যবহার করে সর্বস্ব লুটে নিয়ে যায় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। এছাড়া ওছখালী এলাকার ওষুধ বিক্রেতা রিপন, শাহাদাত মোল্লা, চৌমুহনী এলাকার প্রবাসি আবির, প্রয়াত ব্যবসায়ী হানিফ ও কাশেমসহ অসংখ্য বাড়িতে স্প্রে পার্টি অঘটন ঘটিয়েছিল।
যা এখনো ঘটে চলেছে প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো বাড়িতে
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে এসব চোর-ডাকাতদের বিরুদ্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান স্থানীয় সচেতন মহল।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ