শিরোনাম:
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে ওশান গভর্ন্যান্স: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ দারিদ্র্যের কাছে হার নয়, ছাত্রদল নেতা রাশেদুল ইসলামের মানবিক উদ্যোগ বিদায় আপসহীন নেত্রী  নোয়াখালী-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বিএনপি নেতা  নোয়াখালীতে বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত সততা ও সাফল্যের স্বীকৃতি নোয়াখালীতে তিন সহোদর সিআইপিকে গণসংবর্ধনা চাটখিলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলায় ২ সাংবাদিক আহতঃগ্রেফতার-২ তারেক রহমানের আগমনে নোয়াখালী থেকে ঢাকায়  বিএনপির লক্ষাধিক নেতাকর্মী সুবর্ণচরের অবৈধ ইট ভাটায় অভিযান, জরিমানা ২ লক্ষ টাকা নোয়াখালীতে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক সমন্বয় সভা

সততা ও সাফল্যের স্বীকৃতি নোয়াখালীতে তিন সহোদর সিআইপিকে গণসংবর্ধনা

নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

হান্নান শাকুরঃ
একই পরিবারের তিন সহোদর ভাই একযোগে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ঈওচ) হিসেবে সরকারের স্বীকৃতি পেয়েছেন যা শুধু নোয়াখালীর জন্য নয় বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল ও গৌরবোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক অর্জন উপলক্ষ্যে বুধবার রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নস্থ স্কুল মাঠে দেওটি বাজার স্পোর্টিং ক্লাব ও বানীপুর ভিক্টোরিয়ান হেল্পিং ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাঁদের রাজকীয় নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়। আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক বিশাল জনসমাবেশে। ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
সংবর্ধিত তিন ভাই হলেন, ক্যাপ্টেন এ.কে.এম গোলাম কিবরিয়া, গোলাম মর্তুজা ও জাহিরুল ইসলাম। বাংলাদেশ সরকার আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁদের এই সিআইপি সম্মাননা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রবাসী হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিন ভাইকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার সময় মুহুর্মুহু করতালি ও শুভেচ্ছায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় তারা প্রাপ্ত সকল সম্মাননা স্মারক এলাকাবাসীর জন্য উৎসর্গ করেন এবং এলাকার উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য দোয়া কামনা করেন।
আমন্ত্রিত বক্তারা বলেন, একই পরিবার থেকে একসঙ্গে তিন ভাইয়ের সিআইপি মর্যাদা অর্জন দেশের ইতিহাসেই বিরল। এটি শুধু তাঁদের ব্যবসায়িক সফলতার স্বীকৃতি নয় বরং সততা নিষ্ঠা ও দেশের অর্থনীতির প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। বক্তারা আরও বলেন এই সংবর্ধনা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয় তিন ভাই আজকের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁরা প্রমাণ করেছেন, তৃণমূল থেকে উঠে এসেও সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখা সম্ভব। ক্যাপ্টেন এ.কে.এম গোলাম কিবরিয়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের জন্য সুপরিচিত। গোলাম মর্তুজা শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। জাহিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি সামাজিক ও কমিউনিটি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিন ভাইই ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তাঁরা এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের সি-সুইট নেতৃত্বের অংশ হিসেবে কৌশলগত ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। শিক্ষা, মানবিক কার্যক্রম, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও বৈশ্বিক ব্যবসা সম্প্রসারণে তাঁদের সম্মিলিত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠান দুটিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসে অবস্থান করেও তিন ভাই যে নিষ্ঠা, সততা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে মাতৃভূমির উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন, তা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁদের উদ্যোগে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জানা গেছে, মর্যাদাপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং আইন, ক্রীড়া ও প্রবাসী বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল উপস্থিতিতে তাঁদের মা রত্নগর্ভা হাজেরা বেগম, গোলাম মর্তুজা ও জহিরুল ইসলাম উপস্থিত থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ সিআইপ সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ