সামিউল হাসান স্বাধীন (নোবিপ্রবি প্রতিনিধি)
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক কোয়ার্টার্সে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। সরবরাহ করা পানির মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি বাইরে থেকে কেনা পানিতেও দুর্গন্ধ পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। এতে বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১০ তলাবিশিষ্ট এই কোয়ার্টার্সে বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি নিরাপত্তা, ইন্টারনেট ও গ্যাস সরবরাহ নিয়েও সমস্যা রয়েছে। ভবনটির চারপাশ খোলা থাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পুরোমো ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র একজন আনসার সদস্য। এ পরিস্থিতিতে প্রতিটি ফ্লোরের দুই প্রান্তে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ভবনে ইন্টারনেট সুবিধা থাকলেও কোয়ার্টার্সে নিজস্ব ইন্টারনেট সংযোগ নেই। ফলে আবাসিক শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেসরকারি ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি খরচে সংযোগ নিতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা হলে তাঁদের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্যাস সরবরাহ নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। বাসিন্দাদের দাবি, রান্নার প্রয়োজনীয় সময়ে বেশির ভাগ সময় গ্যাস পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে তাঁদের। এতে একদিকে গ্যাসলাইনের জন্য মাসিক বিল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে সিলিন্ডার কিনতেও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে আবাসিক শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে আর্থিক চাপ।
কোয়ার্টার্সে মোট ৭২টি ফ্ল্যাটের মধ্যে আনুমানিক ৩০ টি খালি রয়েছে বলে জানা গেছে। ফ্ল্যাট খালি থাকার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ফ্ল্যাটগুলো মূলত দুই শ্রেণিতে বিভক্ত—প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের জন্য এক ধরনের এবং সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকদের জন্য তুলনামূলক বড় ফ্ল্যাট। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাটি কিছুটা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বাজার, স্কুল ও হাসপাতালসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পাশাপাশি ভাড়া ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও আবাসন নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হয়। এসব কারণে অনেক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডরমেটরির এসব সমস্যা সমাধানে আগেও লিখিত আবেদন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন কোয়ার্টার্সে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য গঠিত কমিটির সাবেক আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক জিএম রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি প্রায় বছরখানেক আগেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি, কিন্তু তারপর নতুন কমিটি গঠিত হয়নি। আমরা লিখিত আবেদন দিয়েছিলাম এবং জেনারেটর স্থাপনের মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে, কোয়ার্টার্সে বিশুদ্ধ পানির সংকটের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানীকে অবহিত করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামাল হোসাইনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামাল হোসাইন বলেন, “পানির ব্যবস্থার জন্য বাজেট দিয়েছিলাম। এটি অনুমোদন হলেই আমরা কাজ শুরু করব।”