নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় সাধারণ একটি আবাসিক ঘরে হঠাৎ এক লাফে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকার ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আসার ঘটনাটির দ্রুত সমাধান হয়েছে।
বিভিন্ন মাধ্যমে খবরটি জানাজানি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ। ঘটনার দিন রাতেই বিদ্যুৎ অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে সংশোধিত বিলের কপি পৌঁছে দেন এবং গ্রাহকও তাৎক্ষণিক তা পরিশোধ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়ির মৃত আবু তাহেরের নামের মিটারে (যা বর্তমানে ব্যবহার করেন তাঁর নাতি শহীদুল ইসলাম রনি) সেপ্টেম্বর মাসের বিলে হঠাৎ করেই ছয় হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়। ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ যার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। অথচ পরিবারটির বিগত পাঁচ মাসের গড় বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল মাত্র ১৮৭ ইউনিট।
এই অস্বাভাবিক ও ‘ভুতুড়ে’ বিলের খবরটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি ভুলের বিষয়টি স্বীকার করেন দ্রুততম সময়ে তা সমাধান করেন।
এ বিষয়ে চাটখিল জোনাল অফিসের ডিজিএম জুনায়দুর রহমান বলেন, “গ্রাহকের মূল বিলের কপিটি দেখার পর আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। এটি সম্পূর্ণ ভুলবশত ঘটেছে। মাঠপর্যায়ে বিল প্রস্তুত বা ডেটা এন্ট্রির সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত অসঙ্গতি তৈরি হয়। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরপরই দ্রুত মিটার পরীক্ষা করে সঠিক বিল প্রস্তুতের নির্দেশনা দিই এবং গ্রাহক হয়রানি লাঘবে রাতেই বাড়ি গিয়ে সংশোধিত বিলটি হস্তান্তর করা হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের এমন গাফিলতি যেন আর না হয়, সেজন্য আমরা তদারকি আরও জোরদার করছি।”
আশ্বাস অনুযায়ী, বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গ্রাহক শহীদুল ইসলাম রনি জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাটখিল জোনাল অফিসের ডিজিএম এবং এজিএম দুজনেই উপস্থিত হয়ে তাঁর বাড়িতে সংশোধিত সঠিক বিলের কপিটি হস্তান্তর করেন। বিলটি হাতে পাওয়ার পর তিনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই সাথে সাথে তা পরিশোধ করে দেন।
স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক নোমান ছিদ্দিক বলেন পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এমন দ্রুত ও দায়িত্বশীল তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। গ্রাহকেরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের গাফিলতি রোধে বিদ্যুৎ বিভাগ আরও সতর্ক থাকবে, যাতে সাধারণ মানুষকে এমন আকস্মিক হয়রানির শিকার হতে না হয়।