হাতিয়া পৌরসভা অফিস লুটে খান ইঞ্জিনিয়ার সেলিম,ক্যাডার স্টাইলে চালান অফিস

নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"addons":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া(নোয়াখালী)।
ভুতুড়ে প্রকল্পের নামে বরাদ্দ আত্মসাৎ, অফিস না করেও মাস শেষে বেতন-ভাতা উত্তোলন, রোলার মেরামত, অফিসের হোন্ডা মেরামত-জ্বালানি খরচসহ নানা অযুহাতে বিল ভাউচারের নামে অফিসের টাকা লুট এবং নানান দুর্নীতি-অনিয়মের মাধ্যমে হাতিয়া পৌরসভা অফিসকে লুটেপুটে খান উপ-সহকারী প্রকৌশলী(এস এ ই) মো.সেলিম উদ্দিন। বিগত সরকারের আমলে নিজেকে বড্ড আওয়ামীলীগার দাবি করে মেয়র বিপ্লবের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে নিয়মবহির্ভূত বহু সুবিধা নিয়েছেন তিনি। পটপরিবর্তনের সুযোগে এখন চাকরিচ্যুত পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ বহিরাগতদের সাথে রেখে ক্যাডার স্টাইলে অফিস চালানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যদিও প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন সহকারী কমিশনার(ভূমি)
নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভা অফিসের তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে , সাবেক মেয়র কেএম ওবায়দুল্লাহ বিপ্লবের সময়ে অফিসের পরিচ্ছন্নকর্মী মো. রাশেদ উদ্দিন শিশু কার্ড যাচাই-বাছাই,মাতৃত্বকালীন ভাতা,বয়স্ক ও বিধবা ভাতা নিশ্চয়ন করতেন । এসময় রাশেদ এসব কার্ডে ভুয়া মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে(গত সরকার পতনের তিন মাস আগে) চাকরিচ্যুত হন। আওয়ামী সরকার পতনের পরপরই পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী(এস এ ই) মো. সেলিম উদ্দিন এবং চাকরিচ্যুত পরিচ্ছন্নকর্মী মো. রাশেদ উদ্দিন নিয়মিত ইঞ্জিনিয়ার রুমে বসে অনিয়ম ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে অফিস পরিচালনা করে আসছেন। নামপ্রকাশ না করার শর্তে অফিসের একাধিক ভুক্তভোগী স্টাফ জানান, তারা যে যেই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত- অথচ তাদেরকে গুরুত্বহীন কাজ দিয়ে বসে রাখছেন । বহিরাগতদের দিয়ে করাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ।
তারা আরো জানান, সাধারণ সেকশনের যত চিঠিপত্র আদানপ্রদান হয় তাতে ইনিশিয়াল স্বাক্ষর দেওয়ার কথা নিম্নমানসহকারী কাম-মুদ্রক্ষরিকের। অথচ তার কিছুই মানা হচ্ছে না। কম্পিউটার অপারেটর ও রেজিষ্ট্রি বুকসহ ইঞ্জিনিয়ার সেকশনের সব গোপনীয় কাজ মেইনটেইন করানো হয় মো. রাব্বি নামের এক বহিরাগত যুবকের দ্বারা। চাকরিচ্যুত রাশেদের পরামর্শে এস এ ই মো. সেলিম উদ্দিন এই রাব্বিকে পৌর অফিসে বসিয়েছেন। পৌরসভা অফিসে দায়িত্বপালন সংক্রান্তে রাব্বির সাথে ২৮ মে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান, ইঞ্জিনিয়ার তাকে এনে কাজ করাচ্ছেন, এর বাইরে তিনি কিছু জানেন না। এস এ ই সেলিম বিষয়টি জানারপর দুইদিনের মধ্যে বেকডেট দিয়ে রাব্বিকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। একই সাথে মো. রাসেল নামের বহিরাগত আরেকজন লোক কেও খাটানো হয় অফিসের দুর্নীতির কাজে। চাকরিচ্যুত পরিচ্ছন্নকর্মী মো. রাশেদ উদ্দিন, বহিরাগত মো. রাব্বি এবং মো. রাসেল পরস্পর আত্মীয় এবং একই বাড়ির লোক বলে জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী(এস এ ই) মো.সেলিম উদ্দিন ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে হাতিয়া পৌরসভায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির ১৮টি প্রকল্পের মধ্যে চারটি প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছেন বহিরাগত এই তিন ব্যক্তির(সদস্য করে) নামে। যেখানে প্রকল্পগুলোর নামমাত্র সভাপতি করা হয়েছে সমাজ সেবা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে। ০৮নং প্রকল্প- ‘০৫ নং ওয়ার্ড উপজেলা পরিষদ পৌর ভূমি অফিসের পিছনের  নিচু জায়গা ভরাট’। এক লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রকল্পটির সভাপতি সমাজ সেবা কর্মকর্তা, সদস্য রাশেদ পিং- আব্দুল হাই,সাং ০৫ নং ওয়ার্ড।
০২ নং প্রকল্প-‘পাইলট রোড(পাইলট বাজার থেকে গেদু মার্কেট পর্যন্ত)’। এক লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রকল্পটির সভাপতি সমাজ সেবা কর্মকর্তা,সদস্য মো.রাব্বি পিতা মৃত নাসির উদ্দিন,সাং- ০৫ নং ওয়ার্ড।
১১নং প্রকল্প-‘নুর মিয়া রোড’। এক লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রকল্পটির সভাপতি সমাজ সেবা কর্মকর্তা,সদস্য মো.রাসেল পিং মো. জাকারিয়া ০৫নং ওয়ার্ড।
১২ নং প্রকল্প-‘০৬নং ওয়ার্ড স্কুল রোড( ওজি উল্যা রোড থেকে যুক্ত পাঁচ বিঘা সরকারি প্রা.বিদ্যালয় পর্যন্ত)’। এক লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রকল্পটির সভাপতি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা,সদস্য মো.রাসেল পিং মো. জাকারিয়া ০৫নং ওয়ার্ড। এই প্রকল্পগুলোর কোনোপ্রকার কাজ না করিয়ে-ই টাকা তুলে নেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে প্রকল্প সমূহের কাজের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। তিনটি প্রকল্পের সভাপতি সমাজ সেবা কর্মকর্তা কাজী ইমরান হোসেন জানান, এস এ ই মো. সেলিম কাজ করাবে বলে লোক পাঠিয়ে তার থেকে স্বাক্ষর নিয়েছেন, পরে তারা আর কিছু জানায়নি।
১২নং প্রকল্পের সভাপতি ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ জানান, তাকে প্রকল্পের সভাপতি করা সম্পর্কে কিছু জানেন না।
এভাবে বিভিন্ন ভুতুড়ে প্রকল্পের নাম দিয়ে বাকি প্রকল্পগুলোর মাত্র ছয়টিতে যৎসামান্য কাজ করিয়ে টিআর প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ২০ লাখ টাকার প্রায়সব টাকা এস এ ই মো. সেলিম উদ্দিন আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে স্থানীয় সেবা প্রত্যাশীরা এ প্রকল্পসমূহ ও বিল উত্তোলন সংক্রান্তে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত সরকারের পতন হলে পৌরসভা মেয়েরের পদও চলে যায়। ফলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গেল বছরের আগস্টের মাঝামাঝি থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) কে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়। সহকারী কমিশনার(ভূমি)’র কার্যপরিধির চাপ বেশি হওয়ায় নাগরিক সেবার অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে সাইনিং পাওয়ার পান উপ-সহকারী প্রকৌশলী(এস এ ই) মো. সেলিম উদ্দিন। পরবর্তী সময় থেকে এস এ ই মো.সেলিম অফিস চালান তার নিজস্ব নিয়মে। যখন ইচ্ছে অফিস করেন এবং প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে হাজরা খাতায় তার স্বাক্ষর থাকলেও পরবর্তী মাসগুলোতে তার আর কোনো স্বাক্ষর নেই। অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি তার সুবিধামত তারিখে স্বাক্ষরের কাজ সেরে নেন। ফলে নাগরিক সেবার বিপর্যয় ঘটতে থাকে প্রতিনিয়ত।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো.সেলিম উদ্দিন গত তিনদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তার অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন,” এসব বিষয়ে আপনাকে কেন বলবো, কিছু জানার থাকলে ১৮ জুন অফিসে এসে জেনে নিয়েন। এসব কথা মোবাইলে বলতে পারবোনা। “
এসব বিষয়ে, হাতিয়া পৌরসভা প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মং এছেন মোবাইল ফোনে জানান, তিনি অফিসের কাজে হাতিয়ার বাইরে আছেন। কর্মস্থলে এসে তিনি এস এ ই’র অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
 ২ পর্বের ধারাবাহিকে আজ ১ম পর্ব

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ