শিরোনাম:
কবিরহাট উপজেলায় ধানের শীষের উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ নোয়াখালীতে ৬ দফা দাবিতে ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির স্মারকলিপি  দালাল ধরে দিলেই পুরস্কারের ঘোষণা করলেন কোম্পানীগঞ্জ সহকারী কমিশনার নোয়াখালীতে বিএনপির জন-জিজ্ঞাসা বিষয়ক আলোচনা সভা নোয়াখালী টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন বিএনপি নেতার ইন্ধনে ডাকাত আখ্যা দিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে ওশান গভর্ন্যান্স: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ দারিদ্র্যের কাছে হার নয়, ছাত্রদল নেতা রাশেদুল ইসলামের মানবিক উদ্যোগ বিদায় আপসহীন নেত্রী  নোয়াখালী-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বিএনপি নেতা 

সুবর্ণচরে টিআর–কাবিখা প্রকল্পে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫

 

  • আবদুল জববার, বিশেষ প্রতিনিধি (নোয়াখালী)

দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এসব প্রকল্প দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—কাজ না করেই কোটি টাকার বরাদ্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুবর্ণচরে এসব কর্মসূচির আওতায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা নগদ অর্থ ও ১৮০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবে বাস্তবায়ন হয়নি। কোথাও সামান্য কাজ দেখিয়ে বিল তোলা হয়েছে, আবার কোথাও পুরো টাকাই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

“বরাদ্দের অর্ধেক কেটে নেন পিআইও”

কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ২৫-৫০ শতাংশ কেটে নেন পিআইও। কোথাও কোথাও সম্পূর্ণ বরাদ্দই আত্মসাৎ হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

মাঠপর্যায়ের চিত্র

চরবাটা ইউনিয়ন: হাজী নজির আহম্মদ জামে মসজিদের দেয়াল প্লাস্টারের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর মাওলা জানান, তাঁরা কোনো সরকারি সহায়তা পাননি, এলাকাবাসীর টাকায় কাজ করেছেন। একই ইউনিয়নের মৌলভী শরাফত উল্যাহ জামে মসজিদের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কিন্তু সভাপতি দাবি করেন তাঁরা মাত্র দেড় লাখ টাকা পেয়েছেন।

চরক্লার্ক ইউনিয়ন: ইসলামপুর জামে মসজিদের প্লাস্টারের জন্য ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও কাজ এখনো শুরু হয়নি। পাশের ইসলামপুর মার্কেটের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও চার বছর ধরে কোনো সংস্কার হয়নি।

চরআমানউল্যাহ ইউনিয়ন: কুকিজ মার্কেট তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার সংস্কারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও মাদ্রাসা প্রধান বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

চরজব্বার ইউনিয়ন: চরহাসান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা থাকলেও স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান তাঁরা কিছু জানেন না।

চরজুবিলী ইউনিয়ন: চরজুবিলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক মো. আলী আক্কাস অভিযোগ করেন, সামান্য কিছু মাটি ভরাট করা হলেও বাকি টাকা ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। একই ইউনিয়নের সুবর্ণচর সদর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেঞ্চ মেরামতের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কিন্তু বিদ্যালয় কিছুই পায়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন।

প্রকল্প তালিকাও অদৃশ্য

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথা থাকলেও পিআইও কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তালিকা পাওয়া যায়নি। কোথাও লাগানো হয়নি সাইনবোর্ড। তালিকা চাইলে কর্মকর্তা নানা অজুহাত দেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয়দের ক্ষোভ

সুবর্ণচরের সাধারণ মানুষ জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁরা ভেবেছিলেন দুর্নীতি কমবে। কিন্তু আগের মতোই চলছে অনিয়ম। হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ প্রকল্পের অর্থ লুট হয়ে যাওয়ায় তাঁদের মধ্যে তীব্র হতাশা দেখা দিয়েছে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের আমলে টিআর-কাবিখা প্রকল্প দুর্নীতির প্রতীক হয়ে উঠেছিল। পটপরিবর্তনের পর মানুষ ভেবেছিল লুটপাট বন্ধ হবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।” মানবাধিকার কর্মী আবুল খায়ের বলেন, “৫ আগস্টের পরিবর্তনের পরও সাধারণ মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা ভেঙে গেছে।”

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সব প্রকল্প ৩০ জুনের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। কাজ বুঝে নিয়েই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া আসফার সায়মা জানান, “এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সিপিসি–কমিউনিটি প্রজেক্ট কমিটি। কাজ হয়নি—এমন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে অর্থ পুনরুদ্ধারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ