দীর্ঘ সাত বছর পর তেল সমৃদ্ধ দেশ ইরাকের মাটিতে বাংলাদেশি কর্মীরা পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ১৮০ জন বাংলাদেশি কর্মীর প্রথম দলটিকে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) মো.মাকসুদুল হকের নির্দেশে দূতাবাসের কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ ও রেজাউল রিসিভ করে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ইরাকের বাগদাদ থেকে রিক্রুটিং এজেন্সি আল রোটান (প্রা:) লিমিটেডের প্রবাসী কর্মী আকাশ বেপারী, শাওন সরকার, মো. ইমন হাসান, মো.নজরুল বেপারী, তোফায়েল, রায়হান বেপারী ও আমির হোসেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তারাও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছেন। বহু চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে দীর্ঘ সাত বছর পর বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হলো ইরাকের শ্রমবাজার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এবং রিক্রুটিং এজেন্সি আল রোটান (প্রা) লিমিটেড (আর এল -১৮৩১) উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৬টায় সালাম এয়ার-এর ফ্লাইট যোগে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ৩০ জন শ্রমিকের একটি দল বাগদাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ঢাকা বিমানবন্দরের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিমান বন্দর দিয়েও সকাল পৌনে ৯টার ফ্লাইটে ১৫০ জনের শ্রমিকদল ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। রাত ১০ টায় সর্বমোট ১৮০ জন শ্রমিক ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছেছে।
ঢাকা এয়ারপোর্টে তাদের বিদায় জানান রিক্রুটিং এজেন্সি আল রোটান (প্রা) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খোরশেদ আলম ও ওভারসিজ ডিরেক্টর মো. আবুল বাশার। আল রোটানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খোরশের আলম ইনকিলাবকে জানান, দীর্ঘ ৭ বছর চেষ্টার পর অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও সচিব নেয়ামত উল্লাহ ভুঁইয়া, এবং বাগদাদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মেজর জেঃ (অব.) মো.মাকসুদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণের আন্তরিক সহযোগিতায় ইরাকের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
ওভারসিজ ডিরেক্টর আবুল বাশার বলেন, বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য যখন একটার পর একটা দেশের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তখন ইরাকের শ্রমবাজার খুলে যাওয়ায় অসংখ্য অভিবাসন প্রত্যাশী মানুষের মুখে হাঁসি ফুটছে।
বাংলাদেশ থেকে ইরাকে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক প্রেরণের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বৃহস্পতিবার বাগদাদ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মেজর জেঃ (অব.) মো.মাকসুদুল হক ইরাকের শ্রমবাজার চালু হওয়ায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে ইরাক সরকারকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে বলেন, ভ্রাতৃ-প্রতীম ইরাক-বাংলাদেশের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইরাকে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা ইরাক ও বাংলাদেশি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ দিন পর বৈধভাবে ইরাকে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবার মাধ্যমে উভয় দেশের মাঝে সুসম্পর্ক আরো ব্যাপক সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২০১৯ সালে ইরাকস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ভুল তথ্য সম্বলিত একটি চিঠির কারণে ইরাকি সরকার বাংলাদেশিদের কালো তালিকাভুক্ত করে এবং বাংলাদেশি শ্রমবাজারটি বন্ধ ঘোষণা করে। উল্লেখ্য, ইরাকে প্রচুর বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদা রয়েছে। কোন এক সময় ইরাকে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজারটির অবস্থান ছিল এক নম্বর অবস্থানে।
জনশক্তি রফতানিকারক খোরশেদ আলম শুক্রবার ইনকিলাবকে জানান, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি অনেক প্রচেষ্টার পর আমরা প্রথম ধাপে ১৮০ জন কর্মীকে বাগদাদে পাঠাতে সক্ষম হয়েছি। ইরাক সরকার আমাদেরকে ৩ হাজার ৫শ’ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রথম ধাপে ৮৭৫ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার কর্মী নিয়োগানুমতি দিয়েছেন। শিগ্গিরই বাকি কর্মীদের ইরাকে পাঠানো হবে। ইরাকের বিমানবন্দর ক্লিনার এবং হাসপাতাল ক্লিনার পদে আরো নতুন ১৭শ’ কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেয়ার জন্য ইরাক শ্রম মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর আমাদের বিধি অনুযায়ী সহযোগিতা করলে ইরাকের বিভিন্ন সেক্টরে হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মী স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে প্রেরণ করা সম্ভব হবে বলেও ওই জনশক্তি রফতানিকারক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।