নোয়াখালী প্রতিনিধি-
নোয়াখালীতে বিচারাধীন মামলা প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ, আদালত প্রাঙ্গণে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৬ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু আদালত প্রাঙ্গণেই নয়, বাড়ি ফেরার পথেও তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো ও চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী রাশেদা বেগম । এসব ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আদালতে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর স্বামীকে হত্যাচেষ্টা ও তাঁদের বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা জিআর ২২৬/২০২৫ নম্বর মামলাটি বর্তমানে নোয়াখালীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন। মামলাটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে বাদী অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিয়ে আসছেন। গত ১৩ অক্টোবর আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাঁদের মধ্যে তিনজন তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে মারধর ও হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা হয়। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, পরদিন ১৪ অক্টোবর আদালতে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করায় আবারো তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় তাঁকে গলা চেপে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং তার গায়ে বোতল নিক্ষেপ করে । এ সময় তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি। পরে আদালতের কার্যক্রম শেষে বাড়ি বাড়িতে গেলে তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা, চাঁদা দাবি এবং মামলা তুলে না নিলে ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়া হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ১৫ অক্টোবর আদালতে লিখিত আবেদন করেন ওই নারী। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আদালতে দেওয়া আবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন বাদী। তাঁর দাবি, জিআর ২১০/২০২৪ নম্বর মামলায় পর্নোগ্রাফি ও(চাঁদাবাজ) নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এবং জিআর ৪৫/২০২৫ ও জিআর ১৭/২০২৬ নম্বর মামলায় হুমকিসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে অভিযুক্ত ৩ ব্যক্তি হলেন আশরাফ উদ্দিন মাঝি, শরিফুল ইসলাম, জিন্নাত আরা বেগম।
অভিযুক্ত শরীফুল ইসলাম ও জিন্নাত তারা বেগম পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় ২ মাস কারাবরণ করেছেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান। আদালতের কাগজপত্র হাতে ফেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।