শিরোনাম:
সাংবাদিক দিলদার: নিভে যাওয়া এক আলোকবর্তিকার নাম মসজিদের ইমামের হাত ধরে প্রবাসীর স্ত্রী উধাও ট্যুর বিল উত্তোলন থেকে মার্ক টেম্পারিং: নোবিপ্রবিতে শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ফেসবুকে জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য, ওসি নোমানের নেতৃত্বে যুবক আটক: আর্জেন্টিনা নগর’ থেকে কারাগারে: কে এই ভাইরাল আজাদ মেম্বার? নোয়াখালীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন: লক্ষ্যমাত্রা পৌনে ৬ লাখ শিশু হাতিয়ায় কিশোরীকে জোর করে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে মরণোত্তর সম্মাননা দিল ঢাকাস্থ কবিরহাট উপজেলা ফোরাম ইতালিতে খুন হওয়া ৩ বাংলাদেশির বাড়িতে এসেছিল উড়ো চিঠি ইতালিতে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতে নোয়াখালীর একই পরিবারের তিনজন নিহত

সাংবাদিক দিলদার: নিভে যাওয়া এক আলোকবর্তিকার নাম

নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ারুল ইসলাম রাশেদ
কিছু মানুষের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের শোক নয়; তা একটি জনপদের দীর্ঘশ্বাস, একটি সমাজের নীরব কান্না এবং একটি প্রজন্মের অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁদের বিদায়ে শুধু একজন মানুষের জীবনাবসান ঘটে না, থমকে যায় অসংখ্য স্বপ্ন, স্তব্ধ হয়ে যায় অনেক সম্ভাবনার পথচলা। এমন মানুষের প্রস্থান ইতিহাসের পাতায় নীরব শূন্যতা হয়ে থেকে যায়।

আজ হাতিয়ার আকাশ তেমনি এক গভীর বিষাদের চাদরে আবৃত। সাম্প্রতিক সময়ে শফিকুল হায়দার মুকুল ভাইসহ একের পর এক গুণীজনের বিদায়ে যে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও লেখক এম দিলদার উদ্দিন (অপু)-এর প্রয়াণ যেন সেই বেদনাকে আরও গভীর করে তুলেছে। নিভে গেছে এক আলোকবর্তিকা, থেমে গেছে এক নির্ভীক, সৃজনশীল ও মানবিক কলম।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ছৈয়দিয়ার কৃতী সন্তান, মরহুম আলী আহমদ মিয়ার নাতি এবং মরহুম জাহাঙ্গীর মিয়ার পুত্র, আমার পরম শ্রদ্ধেয় মামাশ্বশুর, হাতিয়া কণ্ঠ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সাহিত্যিক ও প্রবীণ সাংবাদিক এম দিলদার উদ্দিন (অপু) ২০২৬ সালের ১ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তিনি ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সংগঠক এবং সমাজমনস্ক চিন্তক। সংবাদকে তিনি কখনো পেশা হিসেবে দেখেননি; দেখেছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব হিসেবে। তাঁর কলম ছিল সত্যের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। আবার সাহিত্যচর্চায় তিনি মানুষের অন্তর্জগত, জনপদের জীবন, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবিক অনুভূতিকে এমন আন্তরিকতায় তুলে ধরেছেন, যা পাঠকের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যায়।

তিনি বিশ্বাস করতেন—একটি সৎ কলম সমাজকে বদলে দিতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হাতিয়া কণ্ঠ। সীমিত সামর্থ্য, প্রতিকূল পরিবেশ ও নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাঁর হাত ধরেই অনেক নবীন সাংবাদিক, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পথচলার সাহস পেয়েছেন। তিনি ছিলেন তাঁদের কাছে একজন অভিভাবক, একজন শিক্ষক এবং একজন নির্ভরতার নাম।

মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মহৎ কর্ম কখনো মৃত্যুবরণ করে না। এম দিলদার উদ্দিন (অপু)-এর জীবন সেই চিরন্তন সত্যেরই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি শারীরিকভাবে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু তাঁর চিন্তা, আদর্শ, সৃজনশীলতা, সততা এবং কর্মনিষ্ঠা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষকে আলোকিত করবে। তাঁর রচনা, তাঁর স্বপ্ন এবং মানুষের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসাই হবে তাঁর অমর পরিচয়।

হাতিয়ার সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর প্রয়াণে আমরা শুধু একজন সাংবাদিককে হারাইনি; হারিয়েছি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন বিবেকবান মানুষ, একজন সংস্কৃতিসেবী এবং জনপদের এক নিবেদিতপ্রাণ আলোকসৈনিককে। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের প্রকৃত জীবন তার বয়সে নয়, তার কর্মে; তার অস্তিত্বে নয়, তার রেখে যাওয়া আলোর মধ্যে।

মহান আল্লাহ মরহুম এম দিলদার উদ্দিন (অপু)-এর সকল গুনাহ ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগিচায় পরিণত করুন, তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সমগ্র হাতিয়াবাসীকে এই শোক ধৈর্য ও ঈমানের সঙ্গে বহন করার তাওফিক দান করুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ