রাসেদ বিল্লাহ চিশতীঃ
খলিফার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিদ্যালয়ের অর্ধলক্ষ টাকা আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করা, অসংখ্য অপকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগসহ অবৈধভাবে দলীয় মনোনীত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
(২২ জুন ২০২৫ইং) রবিবার নোয়াখালী সদর উপজেলার খলিফারহাট উচ্চ বিদ্যালয় চত্বর থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়ে বিদ্যালয়ের চতুর্পাশের অসংখ্য বার প্রদক্ষিণ করে। এসময় কয়েকশত শিক্ষার্থী ও শতশত অভিভাবকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে একটি প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রধান সড়কের সম্মুখে স্কুল গেইটের সামনে অবস্থান নেন। প্রতিবাদ সমাবেশে খলিফারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাকারী, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারী, অসংখ্য অপকর্মে সাথে লিপ্ত থাকার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক দূর্নীতিবাজ দেলোয়ারের পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, দূর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার সবসময় আমাদের সাথে অশোভন আচরণ করে, পাঞ্জারী পাবলিকেশন থেকে দেওয়া ফ্রী সাজেশন শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে সে, বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে ফার্নিচার দোকান বসিয়ে অর্থ আদায়, স্বেচ্ছাচারী আচরণ, পাঠ্যবইয়ের কোম্পানি নির্ধারণ করে পাঞ্জারি পাবলিকেশন থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়, যথার্থ কোন কারন ছাড়া সিলেবাস বদল, গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ, স্কুল ফান্ড থেকে অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া আদায়সহ অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। সে যদি সেচ্ছায় পদত্যাগ না করে তাহলে আমরা দূর্নীতিবাজ দেলোয়ারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। এসময় বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরসহ অসংখ্য অভিভাবকগন উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম বলেন, একবার এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার পরিক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহের কারণে হল থেকে তাকে চিরস্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। সে কোন নিয়মকানুন তোয়াক্কা করে না।
অভিভাবক মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, তার নিয়োগই সম্পূর্ণ অবৈধ। দুর্নীতিবাজ দেলোয়ার অবৈধভাবে দলীয় মনোনীত প্রধান শিক্ষক। সে পদত্যাগ করতেই হবে।
খলিফার হাট উচ্চ বিদ্যারয়ের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হাজী আবদুল্লাহ মাষ্টার গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নানা অপকর্ম ও দূর্নীতির অভিযোগে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রতিবাদ মিছিলে নেমেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানে এ দুর্নীতিবাজ অর্থলোভী শিক্ষককে চায় না। নীতিগত ভাবে তিনি আর এ বিদ্যালয়ে থাকতে পারেন না। তাকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে অসংখ্য বার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামিমা আক্তার বলেন, আমি শুনেছি, কি জন্য শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি করেছে বিস্তারিত জানিনা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঁখি নূর জাহান নীলা গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, বিদ্যালয়ে আন্দোলন এ প্রতিবাদ মিছিলের খবর পেয়েছি।প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আনীত অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।