গায়েবী মামলায় আটক শিক্ষকের অব্যাহতির দাবিতে হাতিয়ায় মানববন্ধন :

নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫

 

হাতিয়া উপজেলা, নোয়াখালী:

হাতিয়ায় নলচিরা ছিদ্দিকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: জসিম উদ্দিন কে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা থেকে মুক্তি ও স্থায়ীভাবে অব্যাহতির দাবিতে মানববন্ধন করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক পরিবার।

সোমবার(১১ আগস্ট) সকালে হাতিয়া থানার সামনে প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক পরিবারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিত বক্তব্য দেন, হাতিয়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আ.ন.ম হাসান, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাহফুজুল ইসলাম কাইয়ুম,সাধারণ সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিক নাসির, প্রাইমারী শিক্ষক নেতা নুর নবী শাহীন, লাইজু শাহীন, ভুক্তভোগীর ভায়েরা নাসির উদ্দিন ঝন্টু ও মেয়ে আনিছা তাবাসসুম প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক মো.জসিম উদ্দিন তাঁর স্কুলে নিয়মিত পাঠদান করে আসছেন, হাতিয়া থানা থেকে তাঁর বাসা কোয়ার্টার মাইল দূরে, প্রত্যহ উপজেলা শহরে আসা-যাওয়া করেন। ঢাকার হলিক্রসে তাঁর মেয়ের ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে তিনি চলতি মাসের ৬ আগস্ট হাতিয়া ত্যাগ করেন। অথচ তার পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, তিনি যদি প্রকৃত আসামি হন তবে তাকে হাতিয়ায় আটক করা হলোনা কেন? তিনি ১৯৯১ সালে এসএসসি পাস করে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। আর একই সালে চট্টগ্রামের চকরিয়া থানায় করা ডাকাতি মামলার আসামি হন জসিম। কাকতালীয় ভাবে আসামির নামের সাথে এ ভুক্তভোগীর নাম মিলে যায়। প্রকৃত আসামিকে চিহ্নিত করে ভুক্তভোগী মো. জসিম উদ্দিনকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদানের জন্য প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আ.ন.ম হাসান বলেন, চকরিয়া থানার একটি ডাকাতি মামলায় চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মো. জসিম উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। যা নিয়ে পত্রপত্রিকায়- ২০ বছরের সাজা এড়াতে ২৩ বছর পালাতক,গ্রেপ্তার, নাম গোপন করেও রক্ষা হলোনা সাজাপ্রাপ্ত আসামির, ইত্যাদিসব। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অথচ তিনি সবসময় রাস্তাঘাটে চলাফেরা করে।
ভুক্তভোগীর ভায়েরা নাসির উদ্দিন ঝন্টু বলেন, ১৯৯১ সালে করা এ মামলায় মো. জসিম উদ্দিনের বয়স উল্লেখ করা হয়েছে তখন ৫২ বছর। বর্তমানে যা দাঁড়ায় ৮৬ বছরে। অথচ বর্তমানে তার প্রকৃত বয়স ৪৯। শুধু তাই নয়, উক্ত মামলায় তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসিম প্রকাশ দেলু প্রকাশ তেলু। যার কোনোটাই তিনি নন।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক ও ভুক্তভোগীর পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে, এএসপি-হাতিয়া সার্কেল মো. নুরুল আনোয়ার জানান, যেহেতু এ মামলায় আসামির সাজা হয়ে গেছে সেহেতু ভুক্তভোগী পরিবার এ নিয়ে আপিল করতে পারেন। পুলিশ প্রশাসনও এ নিয়ে আরো অধিকতর তদন্ত করে প্রকৃত আসামি ক্রসচেকের চেষ্টা করবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের চকরিয়া থানায় ১৯৯১ সালের ৬জুলাই একটি ডাকাতি মামলার( মামলা নং-০৪)আসামি হন জনৈক জসিম উদ্দিন। জিআর ৯৯/৯১। যা এই ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক মো.জসিম উদ্দিনকে উক্ত মামলার আসামি দেখিয়ে গত ৭ আগস্ট ঢাকা থেকে আটক করা হয়।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ