নোয়াখালীর জনস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রশ্নবিদ্ধ : টেন্ডার শর্ত পরিবর্তনে ক্ষোভ, দুদকের তদন্তও চলমান

নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নয়া সকাল প্রতিবেদক:

নোয়াখালীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম-এর পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি “Host and Rohingya Enhancement of Lives Project (HELP)” এর আওতায় ৩৫০টি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন প্রকল্পের টেন্ডারের শর্ত হঠাৎ পরিবর্তন করেন তিনি।

আগের শর্ত অনুযায়ী টেন্ডার অংশগ্রহণের জন্য গড় বার্ষিক নির্মাণ টার্নওভার ছিল ১২ কোটি টাকা। কিন্তু নতুন সংশোধনীতে তা বাড়িয়ে ১৮ কোটি টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবমার্সিবল পাম্পের একক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫ হাজার টাকা, যা প্রথম প্রকাশিত দরে ছিল অতি সামান্য।

স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, এই পরিবর্তনের ফলে নতুন আবেদনকারীরা টেন্ডারে অংশ নিতে পারছেন না এবং যারা আগে আবেদন করেছেন তারাও অযোগ্য হয়ে পড়বেন। তাদের মতে, এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে জানা গেছে, এক্সিয়েন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডার এর সাথে দুর্ব্যাবহার,সিলেকশনিং সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একটি অভিযোগ তদন্ত করছে। ফলে তার সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তে ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় ঠিকাদাররা বলছেন, হাতিয়ার হোস্ট কমিউনিটি ও রোহিঙ্গা শিবিরের মানুষের জন্য এই পানি সরবরাহ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এক্সিয়েনের এমন পদক্ষেপ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটাবে, জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলবে।

একজন ক্ষুব্ধ ঠিকাদার বলেন, “আমরা আগের শর্ত মেনে টেন্ডার সাবমিট করেছি। হঠাৎ শর্ত পরিবর্তন করায় আমরা বাদ। এটি পরিকল্পিতভাবে কিছু সুবিধাভোগীদের সুযোগ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা।এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।৫ তারিখের পর থেকে এই এক্সিয়েন ১ টিও এলটিএম টেন্ডার দেয় নাই সব ওটিএম এই কারনে লাইসেন্স রিনিউও করাই নাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের এক্সিয়েন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,সব PPR rules অনুযায়ী করা হয়েছে।

অভিজ্ঞরা মনে করছেন, দুদকের তদন্ত চলমান অবস্থায় মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের এমন সিদ্ধান্ত তাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ